মদের বোতল হাতে বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীদের নাচানাচি, ভিডিও ভাইরাল
Advertisement
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের বড়াইগ্রামের চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে মদের বোতল নিয়ে নাচানাচির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্ট হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র ও ছাত্রীকে এমন নাচানাচি করতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠে ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী স্কুলের মাঠে নাচানাচি আর আনন্দ উল্লাস করছিল। এ সময় নীরব, ইউনুস ও মিতু নামের শিক্ষার্থীরা গানের সঙ্গে নাচানাচি করতে গিয়ে মদের বোতল হাতে অভিনয় করেছে।
বোতলের ভেতরে মদ সদৃশ তরল পদার্থ থাকলেও সেটা মদ কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ সময় ছাত্রছাত্রীদের অনেককে র্যাগডের মতো সাদা গেঞ্জি পড়ে তাতে নানা রকম বাক্য লিখতেও দেখা গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়েদুল হক বিদ্যালয়ের মদের বোতল নিয়ে নাচানাচি করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের নিয়মিত পাঠদানের শেষ দিনে বিকাল ৪টায় ছুটি দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ৬০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২১ জন ও ছাত্রী ৩৯ জন। তারা আনন্দ করতে গিয়ে এ কাজ করেছে। ঘটনাটি তিনি পরে জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী জানায়, বোতলের ভেতরে মদ ছিল নাকি অন্য কিছু এটা তারা জানে না। তারা কাউকে খেতেও দেখেনি। তবে প্রকাশ্যে স্কুল মাঠে এভাবে মদের বোতল নিয়ে নাচানাচি করাটা ভুল হয়েছে বলে তারা স্বীকার করে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা দুঃখজনক। ঘটনাটি জানার পরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
