গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেবে সরকার: মীর শাহে আলম
Advertisement
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও উপহার বিতরণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নেবেন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জন্মদিন উদযাপনে কেক কাটার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও উপহার বিতরণ এবং অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মীর শাহে আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করলেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কথা ভাবেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের কথা ভেবেছেন। দেশের তিন লক্ষাধিক মসজিদের ইমাম ও খাদেমকে আগামী তিন বছরের মধ্যে জাতীয় স্বীকৃতি দিয়ে বেতন-ভাতার আওতায় আনা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও খাল খননের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে।
চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজের নির্বাচনি এলাকার যাদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাদের সবার চোখের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চান তিনি। যাতে তারা নিজেদের জীবন-জীবিকা পরিচালনার পাশাপাশি ব্যালট পেপারে ধানের শীষ প্রতীক দেখে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন।
এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবিসংবলিত মগ দেওয়া হয়। নারীশিক্ষার প্রসার, ছাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।
সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও তিনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেছেন। তখন দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তার স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে মীর সামারা সুনাত। অনুষ্ঠান শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পরিচালিত চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অস্ত্রোপচার কার্যক্রমে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথম দিনে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকায় সৈয়দপুর ইউনিয়নে ২ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়।
