শ্রীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতার কাণ্ড
Advertisement
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
জাকির হোসেন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের শ্রীপুরে এলজিইডির সড়ক নির্মাণে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জনগণের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা তুলে এবার তোপের মুখে পড়েছেন এক ইউপি সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা।
উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এলজিইডির আওতাধীন একটি সড়ক নির্মাণের কথা বলে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তার এ চাঁদাবাজি থেকে বাদ যায়নি প্রবাসীরাও।
সড়ক নির্মাণে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকার পরও এভাবে টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত জাকির হোসেন প্রহলাদপুর ইউনিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি এবং একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা হতে নিমনিয়া সড়কে এলজিইডির ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন। কিন্তু ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, রাস্তার কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির আওতাধীন সড়কটির নির্মাণকাজের জন্য সরকারি পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও রাস্তা নির্মাণের কথা বলে জনগণের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে চাঁদা উঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের বাইরে এলাকাবাসীকে ভুল বুঝিয়ে অতিরিক্ত অর্থ কেন সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সর্বসাধারণকে মিথ্যা ও ভুল বুঝিয়ে অনৈতিকভাবে টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
চরদমদমা গ্রামের ইসমাঈল মোল্লা জানান, এই গ্রামের অবহেলিত সড়কটি নির্মাণে সরকারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই বলে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ভুল বুঝিয়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। পরে আমরা জানতে পেরেছি সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের টাকা তারা খরচ করেনি।
চরদমদমা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী গুলজার মোল্লা জানান, আমরা প্রবাসে থেকে অনেক কষ্টে টাকা উপার্জন করি। জাকির মেম্বার আমাদের ভুল বুঝিয়ে জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন ফেসবুক এবং বিভিন্ন লোক মারফত জানতে পারলাম তারা এই টাকা রাস্তায় খরচ করেনি। অনৈতিক এই কাজের জন্য আমরা তাদের বিচার চাই। এছাড়াও আমেরিকা প্রবাসী আব্দুস সালামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা এবং ইসমাইল মোল্লার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। এভাবে ওই গ্রামের বিভিন্ন বিত্তশালী এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছ থেকে রাস্তা তৈরির জন্য টাকা উঠিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমি এই টাকা একা উঠাইনি, আমাদের গ্রামের শহীদুল্লাহ ডালি এবং মোফাজ্জল হোসেনসহ আমরা টাকা উঠিয়েছি এবং মোফাজ্জল হোসেনের অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের কথা বলে টাকা তুলে অ্যাকাউন্টে কেন রেখেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পরবর্তীতে টাকাগুলো খরচ করব।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে কর্মরত চরদমদমা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন বলেন, রাস্তার জন্য উঠানো টাকা আমার অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে, তবে কত টাকা তা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ জানান, এলজিইডির অর্থায়নে এ রাস্তা নির্মাণে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ রাস্তার জন্য জনগণের টাকা উঠানোর কোনো প্রশ্নই আসে না এবং টাকা উঠানো হয়েছে— এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকায় নির্মিত রাস্তার জন্য জনগণের কাছ থেকে কেউ টাকা উঠালে এটা নেহাতই চাঁদাবাজি এবং অন্যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক এবং জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
