আইফোনের জন্য বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা
Advertisement
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিখোঁজের সাত দিন পর হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেক আহমেদ (২১) নামে একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু সাহেল মিয়াকে আটক করা হয়েছে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আইফোনের জন্য তারেককে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লার ছেলে তারেক আহমেদ ও একই গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে সাহেল মিয়া বাল্যবন্ধু। কয়েক দিন আগে তারা দুজন লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে একটি ভবন নির্মাণের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান।
গত ২১ অক্টোবর দুপুরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন তারেক। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর তার বাবা মহব্বত উল্লা নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তারেক নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তার বন্ধু সাহেল মিয়ার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি।
এদিকে সাহেলের কথাবার্তায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। মঙ্গলবার বিকালে সাহেল বাড়িতে এলে গ্রামবাসী তাকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল তার বন্ধু তারেককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবায় তারেকের লাশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। হত্যার পর তারেকের ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে বিক্রি করে দেন সাহেল।
সাহেল জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে আইফোনটি নেওয়ার জন্য ঘুমন্ত বন্ধু তারেককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। পরে ৫০ হাজার টাকা দামের ফোনটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাশ গুম করে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
পরে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের ওই ডোবা থেকে তারেকের লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ওসি আবুল হোসেন বলেন, সাহেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার একটি ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাহেল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মামলা দায়েরের পর তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
