ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন
আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পক্ষপাতিত্বের পালটাপালটি অভিযোগ জামায়াত-বিএনপির
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আর মাত্র একদিন বাকি থাকতেই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকায় পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কাছে আলাদাভাবে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান জেলা জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ও বিএনপির প্রার্থীর প্রতিনিধিরা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হওয়ার পর ‘ইএসডিও’ (ESDO) নামের একটি স্থানীয় এনজিওর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে এবং সেখানে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তাদের প্রভাবিত করা হয়েছে।
প্রচারণার সময়সীমা পার হওয়ার পর এ ধরনের ঘটনা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওই তালিকায় একটি নির্দিষ্ট দলের অনুসারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আখানগরের বলিতাপাড়ায় তাদের নির্বাচনি উঠান বৈঠকে বিএনপি সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে দাবি করে দেলাওয়ার বলেন, হামলা ও ভাঙচুর হলো আমাদের ওপর, আমাদের লোক আহত হলো, অথচ কোনো বিচার না পেয়ে উলটো আমাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভোটের দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তারা নির্বাচনে থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জামায়াত প্রার্থী।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম ও জেলা সহকারী কফিল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের আনা এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জেলা বিএনপির প্রতিনিধি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. আতাউর রহমান জানান, তারাও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি পালটা দাবি করেন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকায় জামায়াতঘনিষ্ঠ বেশকিছু ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে প্রতিপক্ষ নানা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
জামায়াতের হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা আতাউর বলেন, বিএনপি একটি বড় সংগঠন, মাঠপর্যায়ে আমাদের অসংখ্য সমর্থক রয়েছে। বড় নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। তবে আমাদের প্রার্থী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিপক্ষ কোনো উসকানি দিলেও যেন ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে নির্বাচন সুষ্ঠু রাখা হয়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উভয়পক্ষের অভিযোগই আমরা পেয়েছি। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করার, তার সবই করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে মোতায়েন থাকবে।
