তাইওয়ানে হিমঘরে পড়ে আছে বাবার লাশ, শেষবারের মতো দেখতে চায় দুই সন্তান
Advertisement
কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
মো. আনিসুর রহমান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুদূর তাইওয়ানে পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের মো. আনিসুর রহমান (৫২); কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তিনি।
নিউ তাইপে সিটির একটি হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে রয়েছে তার নিথর দেহ। আর দেশে বাবার লাশ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তার দুই সন্তান।
আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আনিসুরের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় স্বামীর লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন তার শোকাহত স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা।
মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের আবুল বাসার মুন্সী ও ফিরোজা বেগম দম্পতির ছেলে মো. আনিসুর রহমান চলতি বছরের ২২ জুন জীবিকার সন্ধানে ‘ট্যুরিস্ট ভিসায়’ তাইওয়ান যান। গত ৩১ অক্টোবর সকালে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিউ তাইপে সিটির ‘ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে’ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বর্তমানে তার লাশ ওই হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। আনিসুরের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
মৃত আনিসুরের স্ত্রী শিলা আক্তার জানান, তাদের সংসারে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া মেয়ে জুম্মী রহমান এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছেলে জারিফ রয়েছে। বাবার মৃত্যুর খবরে তারা ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনরা। তারা শুধু অপেক্ষা করছে- কখন দেশে ফিরবে বাবার লাশ, শেষবারের মতো তাকে দেখতে পাবে।
স্বামীর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন শিলা আক্তার।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তাইওয়ানে অবস্থানরত আনিসুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়াং জিয়ান-কাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মৃত্যু ও লাশ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যাবে। সরকারি উদ্যোগে লাশ দেশে আনা হলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তা গ্রহণের প্রস্তুতিও রয়েছে পরিবারের।
এদিকে আনিসুরের ভাই নাজমুল হক, আজিজুর রহমান ও আফজাল বলেন, বিদেশের মাটিতে ভাইয়ের লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিজস্ব অর্থায়নে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের শীর্ষপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া ভাইকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্রুত মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন আনিসুরের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা।
