কলেজে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, অধ্যক্ষ ও সভাপতির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
Advertisement
কুড়িগ্রাম ও নাগেশ্বরী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০২ পিএম
কলেজে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, অধ্যক্ষ ও সভাপতির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কলেজের ল্যাব সহকারীসহ চারটি পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে কলেজের অধ্যক্ষ এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীসহ এলাকাবাসী। এ বিক্ষোভ হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা কলেজে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে কচাকাটা হাইস্কুল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। কচাকাটা বাজার ঘুরে কলেজ গেটে বিক্ষোভ করেন তারা।
এ সময় পুলিশি পাহারায় কলেজ গেট তালাবদ্ধ থাকলে গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে গেটের সামনে কলেজ সভাপতি ডা. মো. ইউনুস আলী ও কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জুয়েলের ছবি ও কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। পরে কলেজের গেট খুলে দেওয়া হলে মাঠে মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে নিয়োগবঞ্চিতরা অভিযোগ করে বলেন, মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পরীক্ষার চার দিন পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কলেজ কমিটির সভাপতি ডা. ইউনুস আলী ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম কম মেধাবীদের নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগের দাবি জানান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় কচাকাটা কলেজের কম্পিউটার কাম-অফিস সহকারী, ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এসব পদে ৪৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেন। ওই দিন যথাসময়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে সবাই উপস্থিত হলেও পরীক্ষা নেওয়া হয় দুপুরের পর। লিখিত শেষে ফলাফল প্রকাশ না করে সবার ভাইভা নেওয়া হয়। ভাইভা শেষে পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করে চার দিন পর ফল প্রকাশ করার কথা বললে তোপের মুখে পড়েন নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা। পরে কচাকাটা থানা পুলিশের সহায়তায় কলেজ ত্যাগ করেন অধ্যক্ষসহ অন্যরা।
চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, মেধাক্রম অনুসরণ করে ফল ঘোষণা করে ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না করে রাত ৮টার দিকে কলেজ ছাড়েন পরীক্ষক ও কলেজ সংশ্লিষ্টরা। পরে ২৭ তারিখ সকালে পরীক্ষার ফলাফল কলেজের নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেন অধ্যক্ষ। তবে ফলাফলপত্রে ২৪ অক্টোবর তারিখে স্বাক্ষর দেখা যায়। লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রমে ওপরে থাকা প্রার্থীরা চাকরি পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বঞ্চিত নিয়োগ প্রার্থী ও স্থানীয়রা।
এ সময় বক্তব্যে আনিছুর রহমান তোলা ব্যাপারী বলেন, কলেজটিকে মেধাশূন্য করার পাঁয়তারা চলছে। অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. ইউনুস আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিপক্ষ একটি রাজনৈতিক চক্র উসকানি দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়, এটা অপপ্রচার। নিয়োগ পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ডিজির প্রতিনিধি, ডিসির প্রতিনিধি ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
