ঘরের মেঝে খুঁড়েও মিলল না নিখোঁজ সামিউলের লাশ
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
ঘরের মেঝে খুঁড়েও মিলল না নিখোঁজ সামিউলের লাশ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের সদরপুরে সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ শিশু সামিউল ইসলামকে (৮) উদ্ধারের আশায় একটি বসতঘরের পাকা মেঝে কেটে রাতভর তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তবে রোববার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত খুঁড়েও কোনো লাশের সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ সামিউল উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াকান্দি এলাকার প্রবাসী মিরাজুল মল্লিকের ছেলে।
এ ঘটনায় চারজনকে আটকের পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বসতঘরের মেঝেতে মাটি কেটে তল্লাশি করা হয়।
স্থানীয় ও পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির নিখোঁজের ঘটনায় রোববার (১ নভেম্বর) চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পিবিআই। তারা হলেন—সদরপুর উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের আলামিন (৩৬) ও মোস্তফা ফরাজী (৫০) এবং নগরকান্দা উপজেলার গোয়ালদী গ্রামের ফরিদ মাতুব্বর (৩৫) ও সুজন মাতুব্বর (৩৭)।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নয়াকান্দি গ্রামের লাভলী বেগমের (৩৫) তালাবদ্ধ বসতঘরে অভিযান শুরু করে পিবিআই। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ঘরের ভেতরের পাকা ইটের মেঝের ঢালাই কেটে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় ছয় ফুট গভীর পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পাওয়ায় ভোররাত ৩টার দিকে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। এ সময় অভিযান দেখতে শতাধিক স্থানীয় উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন নয়াকান্দি গ্রাম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় শিশু সামিউল। পরদিন তার চাচা সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চারজনকে আটক করে পিবিআই। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বসতঘরটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, শিশু সামিউলকে উদ্ধার এবং নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটনে পিবিআইয়ের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
