ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আটটি পিস্তল ও একাধিক ম্যাগাজিন। অস্ত্রগুলো দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঙ্কার ছড়াচ্ছেন এক যুবক। ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও নিয়ে চট্টগ্রামজুড়ে চলছে তোলপাড়।
ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছো কোথায়। (প্রকাশের অযোগ্য) প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্বসহ মিটিয়ে ফেলব। অস্ত্রের দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলে- টাকা দিয়ে মরণের টিকিটি এনেছি। মনে রাখিস। ভালো হয়ে যা সময় থাকতে। ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি। তোদের অবস্থা খুব খারাপ করে দিবো বলে দিলাম। আমি তুফান।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিওটি কখন কে ছেড়েছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং থানা থেকে লুট হওয়া বলে দাবি করা হয়েছে পোস্টে। তবে অস্ত্রগুলোর উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে থাকা হৃদয়কে বুলেট নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভিডিওটি কোথায় থেকে ধারণ ধারণ করা হয়েছে- তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটির নাম হৃদয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ তাকে একবার গ্রেফতার করেছিল। জামিনের বের হয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রের এমন ‘ডিজিটাল মহড়া’ ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম উত্তরের দুই উপজেলা-রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কখন কার ওপর জারি হয় মৃত্যু পরোয়ানা, কখন কার জীবন প্রদীপ নিভে যায় এসব অস্ত্রের বুলেটে- সেই আতঙ্ক তাদের তাড়া করে ফিরছে। ব্যবসায়ী, প্রবাসী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ- সবার মধ্যেই রয়েছে এই আতঙ্ক। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই দুই উপজেলা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। এখানে সন্ত্রাসে জড়িত বাহিনী নগরীকেও মাঝে-মধ্যে অশান্ত করে তোলে। হোয়াটসঅ্যাপে, ভয়েস মেসেজে কিংবা ফোন করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চাঁদা না দিলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি, প্রকাশ্য বাসা-বাড়িতে গিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে তারা। গত আড়াই বছরে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৪০টির মতো খুনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু রাউজানেই ২৭টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
রাউজান থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল থেকে ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখছি, এখনও পর্যন্ত ফলাফল জিরো। মনে হচ্ছে ভিডিওটি ২০২৫ সালের। নিজেকে জাহির করার জন্য এসব ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম হৃদয় বুলেট। ওই যুবককে এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

