Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে সমালোচনার মুখে প্রধান শিক্ষক, তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর

Icon

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে সমালোচনার মুখে প্রধান শিক্ষক, তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর

শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা। 

তাদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধরসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে অসমভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এতে শিক্ষার্থীদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়। এমন ঘটনায় বিব্রত ও অস্বস্তিতে পড়ে শিশুরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুলও কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কী কারণে শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

মিলন নামের এক অভিভাবক বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে দেখি, আমার ছেলের মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথায় স্বাভাবিক চুল ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে।

আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। শীতের মধ্যে এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় শিশুরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। মোবাইলে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়েছিল। চোখের ওপর এসে পড়ছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন এভাবে চুল কেটে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমি প্রশিক্ষণে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, তা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন তদন্ত করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের জন্য বিদ্যালয় হওয়ার কথা নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ। অথচ শৃঙ্খলার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

সিজারে যমজ নবজাতকের জন্ম, পরে উধাও একজন

সিজারে যমজ নবজাতকের জন্ম, পরে উধাও একজন

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীদের আলটিমেটাম

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীদের আলটিমেটাম

কারাগারে জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের মৃত্যু

কারাগারে জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের মৃত্যু

শিক্ষকরা অক্টোবরের বেতন পাবেন কখন, জানাল মাউশি

শিক্ষকরা অক্টোবরের বেতন পাবেন কখন, জানাল মাউশি

একাদশে তৃতীয় ধাপের ভর্তি শুরু আজ, চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত

একাদশে তৃতীয় ধাপের ভর্তি শুরু আজ, চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত

ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনি, প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির

ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনি, প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ৪১ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ৪১ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল

ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ ভাইসহ প্রাণ গেল ৩ জনের

ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ ভাইসহ প্রাণ গেল ৩ জনের

এবার পরীমনিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান গাইবান্ধার সাংবাদিকদের

এবার পরীমনিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান গাইবান্ধার সাংবাদিকদের

১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে সমালোচনার মুখে প্রধান শিক্ষক, তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর

১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে সমালোচনার মুখে প্রধান শিক্ষক, তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম