দ্বিতীয় স্বামীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে ভিডিও ভাইরাল, বিচার দাবি স্ত্রীর
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তালাক দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দ্বিতীয় স্বামীকে মারধর করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রথম স্বামী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
রোববার দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কামরুন আকতার।
কামরুনের অভিযোগ, উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামের আনারুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। সংসার করাকালীন ২ পুত্র সন্তানের মা হন তিনি; কিন্তু ৭-৮ মাস আগে পারিবারিক কলহের কারণে আনারুলকে তালাক দেন কামরুন।
এরপর প্রায় ৫ মাস আগে উপজেলার নাকাটি শহিদ আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৈবর রহমানকে বিয়ে করেন কামরুন। আগের স্বামীর বড় ছেলে কাউসারকে (১৩) নিয়ে তৈবরের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি। আর ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ (৬) তার বাবার বাড়ি অর্থাৎ কামরুনের আগের স্বামীর বাড়িতে থাকে।
সেই কারণে শনিবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে বর্তমান স্বামী তৈবর এবং বড় ছেলে কাউসারকে সঙ্গে নিয়ে ছোট ছেলে আব্দুল্লাহকে দেখতে পটুয়াপাড়া গ্রামে আগের স্বামী আনারুলের বাড়িতে যান তারা। এ সময় আনারুল ও তার লোকজন কামরুন এবং তৈবরকে আটক করেন। তারা মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাদের মারধর করেন এবং ‘তৈবর এক নারীর সঙ্গে ধরা পড়েছে’ এমন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে তৈবরের গলায় জুতার মালা পরিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এতে কামরুন এবং তার স্বামী তৈবর চরমভাবে অপমানিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তালাক দেওয়ায় প্রথম স্বামী এমনটা করেছেন বলে জানান কামরুন। তিনি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুনের মা বিলকিস বেগম, ভাই টিটু, স্বামী তৈবর, তৈবরের বোন সুলতানা, সুলতানার স্বামী কবাদ আলীসহ পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক বলেন, খবর পেয়ে আমরা তাদের উদ্ধার করি। এ বিষয়ে তারা আইনগত সহায়তা চাইলে করা হবে। এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।
