ভারত থেকে আনা ১৮টি রেলকোচের ট্রায়াল রান শুরু
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
ভারত থেকে আনা ১৮টি রেলকোচের ট্রায়াল রান শুরু
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেলকোচের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কারখানা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে কোচগুলো ট্রায়াল রানের জন্য যাত্রা করে বলে জানিয়েছে রেলকারখানা কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে ভারত থেকে আসা প্রথম চালানের ১৮টি কোচ সৈয়দপুর কারখানায় পৌঁছায়। এরপর সেখানে বিশেষ ডিপ্রসেসিং, যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিংয়ের কাজ করা হয়। এসব কাজ শেষে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ ও ক্রু ক্রাফটের সহায়তায় কোচগুলো পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য যাত্রা করে।
এ ট্রায়াল রানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদসহ কারখানার শতাধিক কারিগর ও প্রকৌশলী অংশ নিয়েছেন। এছাড়া তাদের সঙ্গে আছে ভারতের একটি বিশেষজ্ঞ দল।
ডিএস শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেন, রেলওয়ে কারখানায় আনা এসব কোচ নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পঞ্চগড় পর্যন্ত ট্রায়াল রান হচ্ছে। ট্রায়াল রান সফল হলে সেগুলো ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি এই কোচগুলোতে অ্যান্টি-টেলিস্কোপিক ও অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষের সময় কোচগুলো একে অপরের ওপর উঠে যাবে না। পুরোনো স্ক্রু কাপলিং ব্যবস্থার বদলে উন্নত সিবিসি কাপলিং থাকায় কোচগুলোতে ঝাঁকুনি অনেক কম হবে এবং ভ্রমণ হবে আরামদায়ক। এসব কোচে ছোট শিশুসহ যাত্রীদের ভ্রমণের সুবিধার্থে রয়েছে আলাদা শিশু পরিচর্যা বা বেবি কেয়ার রুম। এছাড়া কোচে প্রার্থনাকক্ষ বা নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের রেলওয়ের বাস্তব অবস্থা ও অনেক সময় ছাদের ওপর অতিরিক্ত যাত্রী ভ্রমণের কথা মাথায় রেখে ছাদ অতিরিক্ত ওজন বহনের উপযোগী করে কাঠামোগতভাবে শক্তিবৃদ্ধি করা হয়েছে কোচগুলোতে। কোচগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বেশ আধুনিক। আসনগুলোতে রয়েছে ফোল্ডিং ব্যবস্থা। কোচগুলোতে রয়েছে সুসংহত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনের জন্য প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম।
