সবুজ পাতার বুক চিরে মাথা তুলেছে ফুলকপি, স্বপ্ন বুনছে কৃষক
সফিকুল ইসলাম, জলঢাকা (নীলফামারী)
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শীত আসার আগেই সবুজ পাতার বুক চিরে মাথা তুলেছে সাদা ফুলকপি। সারি সারি গাছে ফুটে ওঠা প্রতিটি ফুলকপি যেন কৃষকের স্বপ্ন আর পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরিচর্যা করা সেই ফসল এখন ঘুরে দাঁড়ানোর আশার আলো দেখাচ্ছে।
মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সম্ভাব্য লাভের হিসাব কষছেন নীলফামারীর জলঢাকার কৃষকরা।
তাদের বিশ্বাস, আগাম সবজি চাষের এই উদ্যোগ বদলে দিতে পারে কৃষকের আর্থিক অবস্থার চিত্র।
শীতের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম অনেকটাই কমে যায়। ফলে ভালো ফলন পেয়েও ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন কৃষকরা। সেই ঝুঁকি এড়াতে এবার আগেভাগেই শীতকালীন সবজি উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছেন তারা। বিশেষ করে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে বাড়ছে আগ্রহ।
এরই মধ্যে জলঢাকার শৌলমারী ইউনিয়নের বাট্টুপাড়া তালুক শৌলমারী গ্রামের দুই ভাই সাদেকুল ইসলাম ও আতিকুর ইসলাম নিজেদের ভাগ্য বদলের আশায় নেমেছেন আগাম ফুলকপি চাষে। যৌথভাবে প্রায় ৭০ শতক জমিতে তারা গড়ে তুলেছেন ফুলকপির খেত। তাদের খেতে এখন দৃষ্টিনন্দন সাদা ফুলকপির সমারোহ। প্রতিটি গাছেই ফলেছে পরিপুষ্ট ফুলকপি। ‘অলরাউন্ডার’ জাতের এসব ফুলকপির একেকটির ওজন ৭০০ গ্রামেরও বেশি। পুরো জমিতে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ফুলকপির গাছ।
দুই ভাইয়ের এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে পরিশ্রম, পরিকল্পনা আর ভালো কিছু করার প্রত্যয়। প্রচলিত মৌসুমের অপেক্ষায় না থেকে আগাম জাতের সবজি চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। এখন খেতে ফলন দেখে তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আশার ঝিলিক। বাজারে বর্তমান দামও তাদের সেই আশাকে আরও জোরালো করেছে।
কৃষক সাদেকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ভালো থাকলে ৪০ শতক জমি থেকেই প্রায় এক লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তবে চাষাবাদের খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভের হিসাব নির্ভর করবে শেষপর্যন্ত উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
সাদেকুল ও আতিকুরের খেতের এমন সম্ভাবনাময় চিত্র দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন আশপাশের অন্য কৃষকরাও। তাদের অনেকেই আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষকদের প্রত্যাশা, সঠিক সময়ে চাষাবাদ, উন্নত জাতের বীজ, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দাম নিশ্চিত করা গেলে আগাম সবজি হতে পারে বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জলঢাকায় আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আগাম ফুলকপি চাষে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, সুষম সার প্রয়োগ এবং সময়মতো পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
আগাম সবজি চাষ সম্প্রসারিত হলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে। কৃষির পরিবর্তিত বাস্তবতায় আগাম সবজি চাষ জলঢাকার কৃষকদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। প্রচলিত মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে এ সম্ভাবনাকে স্থায়ী সাফল্যে রূপ দিতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি।
