ট্রাম্পের মতো অ্যাসপিরিন সেবনে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবেন ভাবছেন? আসল
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিদিন অ্যাসপিরিন সেবন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি দেওয়া তার এক বক্তব্যে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তার দাবি ওষুধটি রক্ত পাতলা করে এবং এটি সেবনেও তিনি মানসিকভাবে স্বস্তি পান। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে একটি প্রশ্নকে সামনে এনেছে— অ্যাসপিরিন যদি কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে, তাহলে সবাই কেন এটি প্রতিদিন সেবন করেন না।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি গুরুতর রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। অ্যাসপিরিনকে অনেক সময় রক্ত পাতলা করার ওষুধ বলা হয়। তবে কারিগরিভাবে এটি অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ, অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট নয়- এমনটাই ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন চিকিৎসক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি ইয়ারানভ।
কম মাত্রায় অ্যাসপিরিন, যেমন— ৮১ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন সেবন করলে রক্তের প্লেটলেটগুলো একসঙ্গে লেগে গিয়ে জমাট বাঁধার প্রবণতা কমে। এতে রক্ত জমাটের কারণে হওয়া কিছু হৃদরোগ ও ইস্কেমিক স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। তবে একই কারণে রক্তপাত হলে তা বন্ধ করাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
যে ব্যক্তির আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস, ইস্কেমিক স্ট্রোক বা করোনারি স্টেন্ট বসানোর মতো কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা হয়েছে, তার ক্ষেত্রে আবার রক্ত জমাটজনিত জটিলতা ঠেকাতে অ্যাসপিরিন দেওয়া হতে পারে। একে বলা হয় সেকেন্ডারি প্রিভেনশন বা দ্বিতীয়বারের ঘটনা প্রতিরোধ।
অন্যদিকে, যার এমন কোনো ঘটনা আগে ঘটেনি, তিনি হৃদরোগ প্রতিরোধে অ্যাসপিরিন ব্যবহারের কথা ভাবলে সেটি প্রাইমারি প্রিভেনশন বা প্রথমবারের ঘটনা। এ ক্ষেত্রে অ্যাসপেরিনে সম্ভাব্য উপকারের সঙ্গে রক্তপাতের ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হয়।
অ্যাসপিরিনকে শুধু হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ওষুধ হিসেবে দেখলে এই পার্থক্যটি সহজে চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
সুস্থ বয়স্কদের ক্ষেত্রে উপকার নাও মিলতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের সহায়তায় পরিচালিত ASPREE গবেষণায় ১৯ হাজারের বেশি সুস্থ বয়স্ক মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এতে দেখা যায়, প্রতিদিন কম মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবনে হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি, বরং অ্যাসপিরিন গ্রহণকারীদের মধ্যে গুরুতর রক্তপাতের ঘটনা বেশি ছিল। এই গবেষণার ফলে বেঝা যায় অ্যাসপিরিন গ্রহণ সবসময় নিরাপদ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস টাস্ক ফোর্স প্রাথমিক প্রতিরোধের জন্য ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যক্তিদের নতুন করে অ্যাসপিরিন শুরু না করার পরামর্শ দিয়েছে। আর ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আগামী ১০ বছরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে অ্যাসপিরিন সেবনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিভেদে নেওয়া উচিত।
কারা উপকৃত হতে পারেন
সবার জন্য কার্যকর এমন কোনো নির্দিষ্ট অ্যাসপিরিন গ্রহণের বয়স বা মাত্রা নেই। চিকিৎসক দিমিত্রি ইয়ারানভের মতে, ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সি কিছু মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যাসপিরিন সেবনের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উপকারের পাশাপাশি রক্তপাতের ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
