হার্ট ব্লকেজ হলেই কি স্টেন্ট বসানো জরুরি, যা জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সব ধরনের হার্ট ব্লকেজের ক্ষেত্রে স্টেন্ট বসানোর প্রয়োজন হয় না। কখন এনজিওগ্রাফি করা দরকার এবং ব্লকেজ ধরা পড়ার পর কী চিকিৎসা দেওয়া হবে—তা নির্ভর করে রোগীর উপসর্গ, ঝুঁকির কারণ, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল ও ব্লকেজের অবস্থার ওপর।
নয়াদিল্লির মণিপাল হাসপাতাল দারকার ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির কনসালট্যান্ট ডা. সরিতা গুলাটি বলেন, ‘প্লাক ধীরে ধীরে বহু বছর ধরে জমা হয়। ফলে কোনো ধরনের দৃশ্যমান ব্যথা বা উপসর্গ ছাড়াই নীরব ব্লকেজ তৈরি হতে পারে। এটি শনাক্ত না হলে হঠাৎ গুরুতর হৃদযন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
এ কারণে শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর করে হার্টের ব্লকেজ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ঝুঁকির কারণ, শারীরিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল—সবকিছুই বিবেচনায় নিতে হয়।
কখন এনজিওগ্রাফি প্রয়োজন হয়?
সাধারণত রোগীর উপসর্গ অথবা আগের কোনো পরীক্ষায় করোনারি ধমনিতে উল্লেখযোগ্য সংকোচনের সম্ভাবনা দেখা গেলে চিকিৎসকরা এনজিওগ্রাফির কথা বিবেচনা করেন।
বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ সময় রক্ত জমাট বেঁধে হঠাৎ কোনো ধমনি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে এবং হৃদপেশির ক্ষতি কমাতে যত দ্রুত সম্ভব জরুরি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়।
এছাড়া এক্সারসাইজ স্ট্রেস টেস্ট, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, ডোবিউটামিন স্ট্রেস টেস্ট বা মায়োকার্ডিয়াল পারফিউশন ইমেজিংয়ের মতো পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল পাওয়া গেলেও পরবর্তী পর্যায়ে এনজিওগ্রাফির প্রয়োজন হতে পারে।
এনজিওগ্রাফিতে আসলে কী দেখা যায়?
এনজিওগ্রাফির সময় সাধারণত কবজি বা কুঁচকির কোনো রক্তনালির মাধ্যমে একটি সরু ক্যাথেটার প্রবেশ করানো হয়। এরপর কনট্রাস্ট ডাই করোনারি ধমনিতে প্রবাহিত করা হয় এবং এক্স-রে ছবির মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এনজিওগ্রাফির মাধ্যমে ধমনির কোথায় সংকোচন রয়েছে এবং সেটি দেখতে কতটা গুরুতর তা বোঝা যায়। তবে শুধু এনজিওগ্রাফি রিপোর্টে উল্লেখ করা ব্লকেজের শতাংশ দেখেই স্টেন্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
ব্লকেজ ধরা পড়লে কী হয়?
ব্লকেজ কোথায় রয়েছে, এর মাত্রা কতটা, রোগীর উপসর্গ কেমন এবং সামগ্রিকভাবে হৃদযন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি কতটা—এসবের ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। তুলনামূলক কম গুরুতর ব্লকেজের ক্ষেত্রে ওষুধ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হতে পারে।
অন্যদিকে, জটিল বা বিস্তৃত করোনারি রোগের ক্ষেত্রে করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং প্রয়োজন হতে পারে। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হৃদপেশিতে রক্ত পৌঁছানোর জন্য বিকল্প পথ তৈরি করা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এনজিওগ্রাফি একটি রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা। এটি করলেই স্টেন্ট বসাতে হবে, এমন নয়। রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল, এনজিওগ্রাফির ছবি এবং ব্যক্তিগত হৃদরোগের ঝুঁকি বিবেচনা করেই একজন কার্ডিওলজিস্ট উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
