জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ অভিনেত্রীর
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ পরিণতি ও নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতে সোচ্চার হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে সতর্ক করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি।
সেই ভিডিওয়ের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে অনলাইন বেটিংয়ের ফাঁদ থেকে দূরে থাকা এবং জুয়ার মাধ্যমে টাকা আয়ের সহজ পথ ছেড়ে নিজের কাজ ও দক্ষতার ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।
ভিডিওতে জুয়ার ভয়াবহ পরিসংখ্যান ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরায় সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন রুকাইয়া জাহান চমক। এই সচেতনতামূলক ভিডিওটিকে তারা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের কথা এমন— যখন অনেক তথাকথিত তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সার সামান্য টাকার লোভে বেটিং অ্যাপের প্রচারণায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই চমকের এমন সামাজিক দায়বদ্ধতা অনুকরণীয়।
ভিডিওতে শিহাব নামে এক যুবকের করুণ অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে রুকাইয়া জাহান চমক বলেন, মাত্র এক হাজার টাকা সহজ আয়ের লোভে পড়ে বেটিং শুরু করেছিলেন শিহাব। কিন্তু পরে জমানো টাকা তোলা ও হারানো অর্থ উদ্ধারের অজুহাতে স্বজনদের থেকে ঋণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হন তিনি।
২০২৬ সালে জেনারেল ইকোনমিক্স ডিভিশনের (জিইডি) রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে অনলাইন জুয়ার আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকায়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ডিবি তদন্তে একটি জুয়াড়ি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন শনাক্ত হয়েছে বলেও ভিডিওতে উল্লেখ করেন চমক।
চমক বলেন, জুয়া শুধু একটি আর্থিক সংকট নয়, এটি একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ও পারিবারিক সমস্যা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫.৫ শতাংশ নারী এবং ১১.৯ শতাংশ পুরুষ জুয়ার কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার, যা পরবর্তী সময়ে আত্মহত্যার ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
টাকার বিনিময়ে বেটিং অ্যাপের লিংক শেয়ার না করার জন্য দেশের অন্যান্য তারকা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা একটি গুরুতর অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানান এ অভিনেত্রী।
