|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢালিউড নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের সিনেমা ‘মাস্টার’ ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শ্রেষ্ঠ সিনেমার পুরস্কার অর্জন করেছে। একের পর এক আন্তর্জাতিক উৎসবে যোগ দিয়ে বাজিমাৎ করে আসছে 'মাস্টার'। এর আগে বিখ্যাত রটারড্যাম উৎসবে অংশ নিয়েও ইতিহাস গড়েছিল সিনেমাটি। এবার জিতল সেরা পুরস্কার। রবিবার (৪ অক্টোবর) নির্মাতা নিজেই সামাজিক মাধ্যমে এ সুখবর জানিয়েছেন।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
'মাস্টার' সিনেমা প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, 'সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এ অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।' এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এর মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।
নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় আরও লিখেছেন— ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা। সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’ তবে বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করা ‘মাস্টার’ সিনেমা দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে, তা জানাতে পারেনি নির্মাতা। কারণ ‘মাস্টার’ এখনো দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটি মিললেই পর্দায় আসবে এ সিনেমাটি।
এবার লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি ও জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।
জানা গেছে, ‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি ছিল এ রকম— স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য এ পুরস্কার। একটি বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে।
অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া 'মাস্টার' সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতিস্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি— আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।
