‘ভারতে কালো জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিজেপি’
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান। ছবি: রয়টার্স
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আসার পথে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করার পর ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দেশে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারির অভিযোগ তুলেছে আম আদমি পার্টি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দলটির বিধায়ক গোপাল রায় বলেন, শুধু একজন ব্যক্তিকে রক্ষার জন্য মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
সাংবাদিকদের গোপাল রায় বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর পরিবর্তে কেন্দ্র সরকার দেশে এক কালো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। আজ জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে আপনারা দিল্লিকে এক সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, যতই বলপ্রয়োগ করুন না কেন, এই আন্দোলনকে দমন করা যাবে না।‘
দলটির দিল্লি শাখার সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, বিক্ষোভকারীরা কেবল ‘অহিংস’ উপায়ে তাদের দাবি জানাতে চান, কিন্তু বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
এক ভিডিও বার্তায় ভরদ্বাজ বলেন, ‘জোর করে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের চুপ করিয়ে রাখা যায় না। তারা আমাদেরই তরুণ সমাজ, তাদের সঙ্গে কথা বলুন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। বিজেপি সরকার দেখাতে চায় যে, আমরা একটি ভীতু দেশ। কিন্তু আমরা তা নই; আমরা অহিংসা এবং ভারতের সংবিধানে বিশ্বাসী।’
ভোট চুরির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টিরর প্রতিবাদ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে।
নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে বিজেপি সরকার।
গতকাল শুক্রবার আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন, তিনি ও তার পরিবার সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ অন্তত ৬০০ জনকে আটক করেছে। বিক্ষোভ ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
শনিবার সকাল ৬টা থেকেই দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় কঠোর ট্রাফিক বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যান চলাচলের পথ পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ মোতায়েন করে গাড়ি পরীক্ষা এবং জনসাধারণের চলাচলে নজর রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ, একাধিক ট্রেন বাতিল এবং রাজধানীর কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও কার্যকর রয়েছে।

