যেভাবে বিমানের ভেতর থেকে আটক করা হয় ককরোচ পার্টির প্রধানকে
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ দিল্লিতে অবতরণের পরপরই তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করে পুলিশ।
উড়োজাহাজের ভেতরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নারী পুলিশ সদস্যরা ৩০ বছর বয়সি দীপকে এবং অন্য দুই নেতাকে আটক করছেন। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে দীপকে বলেন, ‘আমি এখানে গ্রেফতার হতেই এসেছি। আমাকে গ্রেফতার করুন। আমি আপনাদের ভয় পাই না।’
জবাবে এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘না এটি গ্রেফতার নয়। স্যার, দয়া করে সহযোগিতা করুন।’
এরপর দীপকে বলেন, ‘আমাকে আমার ব্যাগটি নিতে দিন।’
এনডিটিভিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সিজেপির তিন নেতাকে পৃথক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিজিৎ দীপকেকে গুরগাঁওয়ের একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে দিল্লির আলাদা দুটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তিন নেতাকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিজেপি। দলটি নিজেদের চলাচলের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও
সিজেপির নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দিতে জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। শনিবার সকালে তাকেও আটক করেছে পুলিশ।
৩২ বছর বয়সি ধ্রুব রাঠীকে গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-তে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাকে আটক করতে দিল্লি পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য সেখানে গিয়েছিলেন।
ধ্রুব রাঠীর ইউটিউবে ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ এবং এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রায় ৩৩ লাখ।
সিজেপির আইন বিভাগের প্রধানকেও আটক
সিজেপির আইন বিভাগের প্রধান রত্না সিংও দাবি করেছেন, বিক্ষোভের আগে তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে রত্না সিং জানান, সকালে দিল্লি পুলিশের সদস্যরা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে বাইরে না যেতে বলেন। পরে তিনি গাড়িতে বসলে একদল পুলিশ সদস্য গাড়িটি ঘিরে ফেলেন। তবে একপর্যায়ে তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
গাড়িতে বসে ধারণ করা ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাকে আটকের কোনও কারণ জানায়নি।’
বিক্ষোভের আগেই একের পর এক আটক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন, যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং একাধিক স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এর মধ্যেই অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, ধ্রুব রাঠী এবং রত্না সিংকে আটক বা আটকের মুখে পড়ার খবর সামনে এসেছে।
সিজেপি এসব পদক্ষেপকে চলাচলের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।


