জলাতঙ্কে গরুর মৃত্যু, দুধের প্রসাদ খেয়ে টিকা নিলেন ৪৫০ ব্যক্তি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম
ভারতের উত্তর প্রদেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের উত্তর প্রদেশের গোরখপুর জেলার দুটি গ্রামের প্রায় ৪৫০ জন জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন। তারা এমন একটি গরুর দুধ থেকে তৈরি প্রসাদ খেয়েছিলেন, যে গরুটির জলাতঙ্ক ছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অস্বাভাবিক আচরণ করার পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গরুটি মারা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করে।
গরুটির দুধ স্থানীয় দুটি দোকান এবং বেশ কয়েকটি বাড়িতেও সরবরাহ করা হয়েছিল, যা দাদি খাস এবং পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
গরুর মালিক নবমী যাদবের ভাষ্য, গত এক-দুই দিন ধরেই প্রাণীটিকে অসুস্থ মনে হচ্ছিল। তবে মঙ্গলবার এর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
গরুটির অবস্থার অবনতি হলে নবমী যাদব ব্যক্তিগত পশুচিকিৎসক ডা. বেচন সিং ও ডা. হারদেব যাদবের পরামর্শ নেন। এ ছাড়া তিনি দাদি খাস ভেটেরিনারি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেন। নবমী যাদবের মতে, পশুচিকিৎসকরা সন্দেহ করেছিলেন যে, কোনো কুকুর গরুটিকে কামড়ে থাকতে পারে।
একজন পশুচিকিৎসক জলাতঙ্কের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করলেও, গরুটির সত্যিই জলাতঙ্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেননি কর্মকর্তারা।
গরুটির মৃত্যু এবং অস্বাভাবিক আচরণের খবর শুনে দুর্গাপূজার সময় যারা প্রসাদ খেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মানুষ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন।
মঙ্গলবার প্রায় ৫০ জন মানুষ কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) গিয়ে ওই টিকা নেন। পরদিন বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল গ্রামে পৌঁছে টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করে, যাতে বাসিন্দাদের উদ্বেগ দূর করা যায়।
ফার্মাসিস্ট সিদ্ধার্থ সিংয়ের নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী আরশাদ, সোনু শ্রীবাস্তব, প্রিয়াঙ্কা ও অঙ্কিতা। শিবিরে প্রচুর গ্রামবাসী জড়ো হওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্রমাগত টিকা দিয়ে যান। বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ দলটি প্রায় ৪০০ জনকে টিকা দেয়, যার ফলে মোট টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪৫০ জনে।
গোরখপুরের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. রাজেশ কুমার জানান, শোনা গেছে যে গরুটিকে একটি কুকুর কামড়েছিল এবং দুর্গাপূজার সময় ভক্তরা সেই গরুর দুধ থেকে তৈরি প্রসাদ খেয়েছিলেন। গরুটি মারা গেছে এবং মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৪৫৫ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছ।
তিনি বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে ব্যাখ্যা দেন, দই তৈরির আগে দুধ নিশ্চয়ই জ্বাল দেওয়া হয়েছিল এবং সেই দই পরে প্রসাদে মেশানো হয়েছিল। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দুধ জ্বাল দিলে ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যায়। মূলত বাসিন্দাদের মধ্যে থাকা ভয়ের কারণেই কর্তৃপক্ষ এই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

