Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

প্রয়োজন হলে গাজায় শান্তিরক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত তুর্কি সেনাবাহিনী

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪০ পিএম

প্রয়োজন হলে গাজায় শান্তিরক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত তুর্কি সেনাবাহিনী

তুর্কি সেনাবাহিনী। ফাইল ছবি

Advertisement

ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর প্রয়োজন হলে গাজায় শান্তি নিশ্চিত ও রক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত তুর্কি সেনাবাহিনী—এ ঘোষণা দিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার (১২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান যেভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মিশনে অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন, তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী (টিএসকে) যে কোনো দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অভিযানে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা টিএসকে সবসময় ন্যায়পরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মান অর্জন করেছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নিয়ে সব পক্ষের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছে। গাজার ক্ষেত্রেও আমরা একই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।’

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেকি আকতুর্ক শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গাজায় দুই বছরের বিধ্বংসী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির পথে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের মধ্যস্থতায় হওয়া প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—গাজায় দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, যেখানে দুই বছর ধরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় চলছে।’

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তুরস্ক টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই যুদ্ধবিরতি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপন করবে এবং ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’-এর পথ সুগম করবে।

সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, সিরিয়ার সাম্প্রতিক নির্বাচন দেশটির ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ’।

তবে তারা সিরীয় গণতান্ত্রিক বাহিনীকে (এসডিএফ) অভিযুক্ত করেন, মানবিজ ও আলেপ্পোর গ্রামীণ এলাকায় সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে ২০২৫ সালের ১০ মার্চ দামেস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য।


বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসডিএফ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আবারও প্রমাণ করেছে, তারা সিরীয় সরকারের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে না। তাদের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।’

তুর্কি কর্মকর্তারা আরও জানান, আঙ্কারা সিরীয় সরকার ও এসডিএফের মধ্যে চলমান যোগাযোগ ও বৈঠকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তুরস্কের অবস্থান হলো—‘মাঠের বাস্তবতা কথার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তুরস্ক সিরিয়ার জন্য ‘‘এক রাষ্ট্র, এক সেনাবাহিনী’’ নীতিতে বিশ্বাসী—এবং আমরা এই অবস্থান ধরে রাখব।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম