Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

শতবর্ষে পা দিলেন ‘প্রকৃতির ইতিহাসকে ফুটবলের মতোই জনপ্রিয় করে তোলা’ সেই অ্যাটেনবরো

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

শতবর্ষে পা দিলেন ‘প্রকৃতির ইতিহাসকে ফুটবলের মতোই জনপ্রিয় করে তোলা’ সেই অ্যাটেনবরো

ফাইল ছবি

শুক্রবার ১০০ বছরে পা দিলেন ডেভিড অ্যাটেনবরো। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে তার তৈরি তথ্যচিত্র সারা বিশ্বের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই মানুষটি আজ এক জীবন্ত কিংবদন্তি।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষণা পরিচালক ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্যান্ড্রা ন্যাপ বলেছেন, ‘তিনি আমাদের সবাইকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন যেখানে আমরা কখনো যেতে পারতাম না। এটা একটা বড় উপহার।’

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক জাঁ-বাপটিস্ট গুইয়ঁ বলেছেন, অ্যাটেনবরো প্রকৃতির ইতিহাসকে ফুটবলের মতোই জনপ্রিয় করে তুলেছেন।

তার জন্মদিন উপলক্ষে বিবিসি পুরো একটি সপ্তাহ তাকে নিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। ‘প্ল্যানেট আর্থ টু’, ‘ব্লু প্ল্যানেট টু’সহ পুরনো পর্বগুলো আবার দেখানো হচ্ছে। জন্মদিনে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে ৯০ মিনিটের একটি সরাসরি অনুষ্ঠানও হবে।

শিশু বয়স থেকেই প্রকৃতির প্রতি টান ছিল অ্যাটেনবরোর। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব ও প্রাণিবিদ্যা পড়েছেন। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে বিবিসিতে যোগ দেন। এরপর আট দশক ধরে কাজ করে গেছেন।

১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লাইফ অন আর্থ’ একাই ৫০ কোটি মানুষ দেখেছেন। সেই সিরিজে রুয়ান্ডায় পাহাড়ি গরিলাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এখনো মানুষের মনে গেঁথে আছে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক মাদি গরিলা তার মাথা ঘুরিয়ে সরাসরি চোখে তাকিয়েছিল, দুটি বাচ্চা গরিলা উঠে বসেছিল তার গায়ে। সেই মুহূর্তটি তার ভাষায় ‘অসাধারণ আনন্দের’।

২০০৬ সালে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরব হন অ্যাটেনবরো। বলেন, এ বিষয়ে তিনি আর ‘সংশয়ী নন’। ২০২১ সালে গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘হয়তো এই উপলব্ধিই আমাদের গল্প বদলানোর শক্তি দেবে, এই বিপর্যয়কে সাফল্যে পরিণত করার সুযোগ দেবে।’

২০২৫ সালের তথ্যচিত্র ‘ওশান’-এ ধনী দেশগুলোর শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার পদ্ধতিকে তিনি ‘সমুদ্রে আধুনিক উপনিবেশবাদ’ বলে সমালোচনা করেছেন।

রাজকুমার উইলিয়াম তাকে ‘জাতীয় সম্পদ’ বলেছেন। প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯৮৫ সালে তাকে নাইট উপাধি দেন। 

বয়সের ভারে এখন আর বিশ্বের জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান না অ্যাটেনবরো। তবে তিনি থামেননি। ২০২৬ সালের শুরুতে ‘ওয়াইল্ড লন্ডন’ তথ্যচিত্রে তিনি লন্ডনের শিয়াল থেকে শুরু করে ইঁদুর পর্যন্ত নানা প্রাণীর গল্প বলেছেন। সব দেশ ঘুরে তার প্রিয় জায়গা দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের রিচমন্ড। সেখানেই তার বাড়ি, সেখানেই এখনো থাকেন তিনি। সেখানেই সেঞ্চুরি পূরণ করলেন ডেভিড অ্যাটেনবরো।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম