Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

কেন ইরাকে নেওয়া হচ্ছে খামেনির লাশ?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

কেন ইরাকে নেওয়া হচ্ছে খামেনির লাশ?

Advertisement

আগামী ৮ জুলাই ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির লাশ। সেখানে রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এবং পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস (পিএমইউ)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে বড় পরিসরের শোকানুষ্ঠান। এরপর লাশ আবার ইরানের মাশহাদে নেওয়া হবে দাফনের জন্য।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—একজন ইরানি নেতার শেষ বিদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেন ইরাকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে?

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় নেতাদের জানাজা কেবল বিদায় জানানোর অনুষ্ঠান নয়; এটি রাজনৈতিক বৈধতা, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং মিত্রদের ঐক্য প্রদর্শনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরাকে খামেনির শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমর্থনের বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায়।

ইরাকের গুরুত্বের আরেকটি বড় কারণ হলো, দেশটি শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র কেন্দ্র। কারবালা ও নাজাফ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা ও নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসে কাজার রাজবংশের কয়েকজন ইরানি শাসকও কারবালায় সমাহিত হয়েছেন। ফলে খামেনির স্মরণানুষ্ঠান সেখানে আয়োজনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারকে শিয়া ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার প্রচেষ্টা দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সিরিয়ায় তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে, লেবাননে চাপ বেড়েছে এবং ইরাকে পিএমইউকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরাকে বড় পরিসরের শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চায় যে, তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং এই সম্পর্ক শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিতেও দৃঢ়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা তার মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে এবং ইরাকও নিজেকে সংঘাত থেকে দূরে রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

তাই বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান শুধু একজন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের অবস্থান, প্রভাব এবং আঞ্চলিক বার্তা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

ইরাকের উপকূলে জাহাজে আগুন

ইরাকের উপকূলে জাহাজে আগুন

ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের ‘রণহুঙ্কার’, হামলার শঙ্কা তুঙ্গে

ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের ‘রণহুঙ্কার’, হামলার শঙ্কা তুঙ্গে

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেন ট্রাম্প

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেন ট্রাম্প

ইরাকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান

ইরাকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান

যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক অবস্থানে ইরান

যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক অবস্থানে ইরান

আরও পড়ুন

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন প্রস্তাব কাতারের, যা আছে এতে

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন প্রস্তাব কাতারের, যা আছে এতে

আরবদের বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠনের দাবি ইসরাইলি ডানপন্থি নেত্রীর

আরবদের বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠনের দাবি ইসরাইলি ডানপন্থি নেত্রীর

সাত বছরে ইসরাইলে কেন ছয় নির্বাচন?

সাত বছরে ইসরাইলে কেন ছয় নির্বাচন?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম