Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

তীব্র খরায় দানিউব নদীতে দেখা মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডজনখানেক জার্মান জাহাজ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

তীব্র খরায় দানিউব নদীতে দেখা মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডজনখানেক জার্মান জাহাজ

ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউবের তলদেশ থেকে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া ডজন খানেক জার্মান যুদ্ধজাহাজ।

ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউবে তীব্র খরার কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। আর এর ফলেই নদীটির তলদেশ থেকে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া ডজন খানেক জার্মান যুদ্ধজাহাজ। 

গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহের মধ্যে এই ঘটনাটি এক অদ্ভুত কৌতুহল ও আকর্ষণের জন্ম দিয়েছে। তবে দানিউবের রেকর্ড সর্বনিম্ন পানিস্তর কেবল এই ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষকেই সামনে আনেনি, বরং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে বন্ধ হওয়ার উপক্রম করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

সার্বিয়া ও রোমানিয়াকে বিভক্তকারী নদীর ঠিক মাঝামাঝি, সার্বিয়ার প্রাহোভো বন্দরের কাছে, মরিচা পরা একটি জাহাজের কাঠামোর পাশাপাশি তার ভাঙা মাস্তুলটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যেখানে একসময় নাৎসিদের পতাকা উড়ত। 

অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এই জাহাজগুলো ছিল নাৎসি জার্মানির ‘ব্ল্যাক সি’ বা কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের অংশ। যুদ্ধের শেষ দিকে রোমানিয়া থেকে পিছু হটার সময় এবং ইউরোপের ভেতরের দিকে সোভিয়েত বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকানোর অংশ হিসেবে জার্মানি নিজেরাই এসব জাহাজ নদীতে ডুবিয়ে দিয়েছিল। 

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রাহোভোর কাছে দানিউবের গিরিখাতে সোভিয়েত বাহিনীর আক্রমণের মুখে প্রায় ২০০টির মতো জার্মান যুদ্ধজাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বলকান অঞ্চলে সোভিয়েত সেনাদের অগ্রযাত্রাকে ধীর করে দেওয়া। তবে এই ঘটনার কয়েক মাস পর, ১৯৪৫ সালের মে মাসে নাৎসি জার্মানি আত্মসমর্পণ করে। 

পুরোনো এই যুদ্ধজাহাজগুলোর এভাবে ভেসে ওঠা সার্বিয়া সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তাদের অসম্পূর্ণ কাজের কথা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় এই জাহাজগুলো অপসারণের চেষ্টা সার্বিয়া অনেকদিন ধরেই করছে। অতীতে কমিউনিস্ট ইউগোস্লাভ কর্তৃপক্ষ কয়েকটি জাহাজ তুলে আনলেও অধিকাংশ জাহাজেই তাজা বিস্ফোরক থাকায় সেগুলো নদীতেই থেকে যায়। 

বর্তমানে পানি কমে যাওয়ার কারণে জাহাজগুলো নৌচলাচলের জন্য চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তা সত্ত্বেও ১০টি দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে ট্রাফিক স্বাভাবিক রাখতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। 

বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক গরম ও খরার পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নসহ অন্যান্য জলবায়ুজনিত কারণকে দায়ী করছেন।

প্রাহোভোর স্থানীয় বাসিন্দা ক্রস্তা ব্র্যান্ডিক জানান, পানি কমে যাওয়ায় নদীপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন, বড় বড় জাহাজগুলো আর এখান দিয়ে চলাচল করতে পারছে না।’ 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .