আফগানিস্তানে স্বর্ণ উত্তোলনের হিড়িক, নেপথ্যে কী?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখসান প্রদেশে স্বর্ণ উত্তোলনের জোয়ার শুরু হয়েছে। শিওয়া অঞ্চলে যেখানে একসময় গবাদিপশু চরত এবং কৃষকরা শান্তিতে থাকতেন, সেখানে দিন-রাত চলছে এক্সকাভেটরের খননকাজ।
দেশজুড়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য হাজার হাজার শ্রমিক সোনা উত্তোলনে ব্যস্ত। তবে এই ‘গোল্ড রাশ’ কিছু মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ করলেও স্থানীয়দের জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ৭৪ বছর বয়সি কৃষক মুহাম্মদ আমিন জানান, খননের কারণে নদীর পরিষ্কার পানি এখন আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। ধুলাবালি ও দূষণে কৃষিকাজ ও ঘাস জন্মানো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার গবাদিপশুর সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। এমনকি খনি কোম্পানির কাছে জমি লিজ দিয়ে তিনি আর্থিকভাবে প্রতারিতও হয়েছেন।
২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় আয় বাড়াতে খনি খাতে জোর দিয়েছে তালেবান সরকার। বাদাখসানের খনি বিভাগের প্রধান আব্দুল মতিন রহিমজাই জানান, বর্তমানে প্রায় ৭০০টি নিবন্ধিত কোম্পানি সেখানে কাজ করছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, নতুন চুক্তির মাধ্যমে এই খাতে বার্ষিক ২৫-৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। দেশে কর্মসংস্থানের তীব্র অভাব থাকায় কাবুল ও জালালাবাদ থেকে অনেক মানুষ মাসে ১০-২৫ হাজার আফগানি আয়ের আশায় খনিগুলোতে কাজ করতে আসছেন।
খনি কোম্পানিগুলোকে প্রতি হেক্টর জমির জন্য মাসে ২০ গ্রাম সোনা বা সমপরিমাণ অর্থ কর দিতে হয়। গত বছর শুধু বাদাখসান থেকেই সরকার ১১২ কেজি স্বর্ণ রাজস্ব হিসেবে পেয়েছে। তবে ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষতির কারণে ২২৫টি খনি সাইট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত খননের ফলে সৃষ্ট কাদামাটিতে অনেক জায়গায় সেতু, দোকানপাট ও স্কুল চাপা পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় রাখাল ও সাধারণ মানুষের মতে, এই স্বর্ণশিল্প তাদের কোনো উপকারে আসছে না, এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চারণভূমি ধ্বংস করে কেবল ক্ষমতাবানদেরই পকেট ভারী করছে।
সূত্র: এএফপি।

