Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলার ভয়ে গোপনে ট্রাকে লুকিয়ে যেভাবে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

ইরানের হামলার ভয়ে গোপনে ট্রাকে লুকিয়ে যেভাবে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

Advertisement

ইরানের পক্ষ থেকে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে—এমন সম্ভাব্য হুমকির পর গত মাসে গোপনে তুরস্ক ছেড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নির্ধারিত এয়ারফোর্স ওয়ানের পরিবর্তে ছোট একটি সামরিক বিমানে তুরস্ক ছাড়েন।

সোমবার (১০ আগস্ট) এ খবর প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। খবর এএফপির।

নাম প্রকাশ না করে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত ৮ জুলাই আঙ্কারায় ট্রাম্প প্রথমে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। পরে বিমানটির সঙ্গে লাগোয়া একটি খাবার সরবরাহের (ক্যাটারিং) কনটেইনার ট্রাকে চলে যান।

এরপর ওই ট্রাকে করে ট্রাম্পকে একটি ছোট আকারের সি-৩২এ বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দেয়। সে সময় সংবাদমাধ্যম ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ট্রাম্প তখনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই রয়েছেন।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ইরানের পক্ষ থেকে হুমকির কারণে ট্রাম্প কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে (নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান) করে দেশে ফেরেননি। তিনি এ বিমানে করেই তুরস্ক গিয়েছিলেন।

আঙ্কারা থেকে উড্ডয়ন করা পুরোনো বিমানে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, যা সাধারণত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকায় অনুসরণ করা হয়। এতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে গত মাসে আঙ্কারায় যান ট্রাম্প। তখন বলেছিলেন, তিনি ফেরার জন্য বোয়িং–৭৪৭ (পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান) ব্যবহার করবেন, যাতে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নতুন বিমানটি (কাতারের উপহারের বিমান) ঘুরে দেখার সুযোগ পান।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, (মধ্যপ্রাচ্যে) ইরানের মিত্র সশস্ত্র বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে আসা একটি হুমকির কারণেই ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তন করা হয়েছিল।

আঙ্কারা থেকে উড্ডয়ন করা পুরোনো বিমান থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, যা সাধারণত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকায় অনুসরণ করা হয়। এতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

বিমান পরিবর্তনের ঘটনায় কাতারের উপহার দেওয়া বিমানটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো এতে একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধীব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সাল থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত দুটি পুরোনো বোয়িং ৭৪৭–এর অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। পরে গত বছর কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল একটি বিমানকে দ্রুত সংস্কার করে তিনি সেটিকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেন।

গত ১ জুলাই প্রথমবারের মতো এটি ট্রাম্পকে নিয়ে নর্থ ডাকোটায় উড়াল দেয়। মাত্র কয়েক দিন পর তিনি বিমানটিতে চড়ে প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে যান।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন সম্পর্কে এএফপির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস নতুন বিমানটির পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে একটি বিবৃতি পাঠায়।

বিবৃতিতে যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক বিমান, যাতে উচ্চমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

চিউং আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন- যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তার দিকে নজর রেখে চলেছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় আমরা ব্যবহার করছি।’

কেন তুরস্ক থেকে ফেরার পথে কাতারের উপহারের বিমান ছাড়তে বাধ্য হলেন ট্রাম্প

নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রথম প্রশ্ন ওঠার পর গত মাসেও হোয়াইট হাউস থেকে একই বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার কয়েক মিনিট পর সেটির নিচ থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাক সরে যাচ্ছে। এরপর ক্যাটারিং ট্রাককে দূরে থাকা ছোট আকারের সি-৩২এ বিমানের দিকে যেতে দেখা যায়।

দুটি বিমানই যুক্তরাজ্যে অবতরণের পর ট্রাম্পকে বড় বিমানটির সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে দেখা যায়। এরপর নতুন করে সংস্কার ও নিরাপত্তা-উন্নয়ন করা এয়ারফোর্স ওয়ানের দিকে যান তিনি।

তবে কীভাবে ট্রাম্প আবার বড় বিমানটিতে ফিরে এসেছিলেন, তা স্পষ্ট নয় বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

ট্রাম্পের চালেই কি ঘুরে দাঁড়ালেন নেতানিয়াহু?

ট্রাম্পের চালেই কি ঘুরে দাঁড়ালেন নেতানিয়াহু?

নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন তো ট্রাম্প?

নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন তো ট্রাম্প?

আমার সমর্থনের কারণে নেতানিয়াহুর পরাজয় ঠেকেছে: ট্রাম্প

আমার সমর্থনের কারণে নেতানিয়াহুর পরাজয় ঠেকেছে: ট্রাম্প

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১২৪ কোটি টাকার মামলা

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১২৪ কোটি টাকার মামলা

আমি যখন চাইব, তখন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প

আমি যখন চাইব, তখন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প

আরও পড়ুন

ইসরাইলে নেতানিয়াহুর দাপট কমল, ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে

ইসরাইলে নেতানিয়াহুর দাপট কমল, ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে

কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ ইরানের, নতুন হামলার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ ইরানের, নতুন হামলার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম