Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ ইরানের, নতুন হামলার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ এএম

কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ ইরানের, নতুন হামলার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

সংগৃহীত

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার আশা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরান যুদ্ধ বন্ধে কাতারের দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করেছে। তেহরানের দাবি, প্রস্তাবটি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, পরমাণু কর্মসূচির প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দেবে না।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। এর আগে রোববার কাতার ইরানের আলোচকদের কাছে একটি খসড়া চুক্তি তুলে দেয়। আট মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধ করাই ছিল এই প্রস্তাবের লক্ষ্য।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আবার হামলা শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পরমাণু ইস্যুতে অনড় তেহরান
যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে।

তবে ইরান বারবার বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে নয়। দেশটির দাবি, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে দেশের বেসামরিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য।

এই বিরোধের কারণে শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় না দিলে সমঝোতার পথ কতটা এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থানে নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন। দেশটির সংসদ নির্বাচনে আবার জয়ের চেষ্টা করছেন তিনি।

এ পর্যন্ত ৭৭ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর জোট ইসরাইলের সংসদে সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে।

বুধবার নতুন সরকার গঠনের আলোচনা শুরুর সময় নেতানিয়াহু জানান, ইরানের হুমকি দূর করতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করবেন।

ইরানকে তিনি ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটও ইরানের ওপর হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোরও সমর্থন করেছেন।

যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে বিশ্ববাজারের ঝুঁকি
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। জ্বালানির দামও বেড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে নতুন হামলা হলে বিশ্ববাজারে ‘ভয়াবহ প্রভাব’ পড়তে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে কোনো সামরিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে, তা গ্যাস সরবরাহকারী ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই বড় উদ্বেগের বিষয়।’

এই সতর্কবার্তা জ্বালানি বাজার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আবার সংঘাত শুরু হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ পড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে।

ইয়েমেনেও বাড়ছে সংঘাত
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট বাহিনী এবং ইরানপন্থী হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে।

বুধবার হুথিরা দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দর খালি করার আহ্বান জানায়। এই শহর সৌদি সমর্থিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

হুথিদের আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ। সংগঠনটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এডেন বিমানবন্দরে অবস্থানরত সবাইকে অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। সেখানে একটি সৌদি সামরিক কার্গো বিমান রয়েছে। বিমানটিতে ইয়েমেনের জনগণকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র বহন করা হচ্ছে।’

তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, সোমবার থেকে ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর লড়াইয়ে প্রায় ১০০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬৩ জন হুথি যোদ্ধা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুক্ত বাহিনীর ৩৪ জন সদস্যও নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে।

সামনে কী হতে পারে?
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইসরাইলের নতুন হামলার হুমকি এবং ইয়েমেনের সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

কাতারের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইরান তার অবস্থান থেকে সরে না এলে সমঝোতা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে, নতুন সামরিক হামলা শুরু হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিও নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র- মিডল ইস্ট আই

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন প্রস্তাব কাতারের, যা আছে এতে

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন প্রস্তাব কাতারের, যা আছে এতে

আমি যখন চাইব, তখন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প

আমি যখন চাইব, তখন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার

হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি আরব, মধ্যস্থতায় ইরান!

হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি আরব, মধ্যস্থতায় ইরান!

পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে ইরানের কট্টরপন্থিরা, চায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিশংসন

পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে ইরানের কট্টরপন্থিরা, চায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিশংসন

আরও পড়ুন

ইসরাইলে নেতানিয়াহুর দাপট কমল, ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে

ইসরাইলে নেতানিয়াহুর দাপট কমল, ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে

কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ ইরানের, নতুন হামলার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ ইরানের, নতুন হামলার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’, যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত ইরানিরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম