সিএনএনের বিশ্লেষণ
শত্রু দেশে পা রেখেও বিশ্বমঞ্চে জয়জয়কার ইরানের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করায় ইরানের জন্য সপ্তাহটি বেশ ভালো কেটেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো তাদের নতুন প্রস্তাবটি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার সাত মাস পর ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তায় ম্যানহাটন ঘুরেছেন।
জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের দেশ কখনো মাথা নত করবে না। দেশের ভেতরের কট্টরপন্থীদের একাংশ এই সফরের শুরুতে বিরোধিতা করলেও, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এটি তেহরানের জন্য বেশ কাজে দিয়েছে।
সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউরোপ ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেন এবং জানান যে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত।
তবে মার্কিন প্রশাসন এই প্রস্তাব নিয়ে খুব একটা তাড়াহুড়ো করতে নারাজ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও জানিয়েছেন যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে দীর্ঘ সময় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন রয়েছে।
গণমাধ্যমের খবর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে বোমা হামলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা এখনও চলছে।
ইরান এখন চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন আগে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো কঠিন পদক্ষেপগুলো নিজে থেকে নেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের এই স্নায়ুযুদ্ধে তেহরান শেষ পর্যন্ত কতটা চাপ সামলে টিকে থাকতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

-6ab7f6fb72f3f.jpg)