শুধু হাতাহাতি নয়, ইসরাইলগামী সেই বিমানে ঘটেছিল লোমহর্ষক ঘটনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
বিমানটির যাত্রীরা সবাই নিরাপদে আছেন। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়েছে বিমানটি। তবে এর পেছনে হাইজ্যাকের ঘটনা আছে বলে দাবি করছে ইসরাইল।
দেশটির গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, মাঝ আকাশে বিমানটির এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। পরে যাত্রী ও অতিরিক্ত ক্রু সদস্যদের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনার পর বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
ইসরাইলের এক কর্মকর্তা জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, ‘বড় ধরনের একটি বিপর্যয় অল্পের জন্য এড়ানো গেছে।’ তার মতে, ওই পাইলট বিমানটি ছিনতাই করে মাটিতে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ঘটনাটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন পাইলট ওমানের নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় ৪ হাজার মিটার উচ্চতা হারিয়ে নিচে নেমে যায় বলে ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ফ্লাইটটি তখন ১০০ জনের বেশি ইসরাইলি যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল। মাঝ আকাশে প্রথমে বিমান থেকে ৭৭০০ কোড পাঠানো হয়, যা সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি বোঝায়। পরে ৭৫০০ কোড পাঠানো হয়, যা বিমান ছিনতাই বা অবৈধ হস্তক্ষেপের সংকেত। এরপর আবার ৭৭০০ কোডে ফিরে যায় বিমানটি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইল বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখে এবং সতর্কতা বাড়ানো হয়। দখলদারদের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে নিরাপত্তা বৈঠকও করেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইসরাইলি যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার কারণে ইসরাইলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণের পর আকাশসীমা আবার খুলে দেওয়া হয়।
যেভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় পাইলটকে
বিমানে থাকা এক ইসরাইলি যাত্রী দ্য জেরুজালেম পোস্টকে জানান, এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে ককপিট থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
সামনের দিকে বসা কয়েকজন ইসরাইলি যাত্রী ককপিটের দিকে ছুটে গিয়ে হামলাকারীকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরে তারা তাকে ককপিট থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন এবং অন্য পাইলটদের ভেতরে ঢুকিয়ে দেন।
ওই যাত্রীর দাবি, পেছনে থাকা আরও দুই পাইলট প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাদের একজন বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
ছুরিকাহত পাইলটের অবস্থা গুরুতর ছিল বলে ওই যাত্রী জানান। বিমানে থাকা একজন ইসরাইলি দন্ত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে এক যাত্রীর মা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার মেয়ে বিমানের ভেতরে চিৎকারের শব্দ শুনেছিল। পরে সে দেখতে পায়, একজন ব্যক্তি ছুরি হাতে পাইলটকে মাটিতে ফেলে দিয়েছে এবং চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে।


