চুল পড়ার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা, জেনে নিন লাইট থেরাপির কার্যকারিতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ এএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা একটি নমনীয় লাইট থেরাপি হ্যাট তৈরি করছেন। এটি চুল পড়ার চিকিৎসায় নতুন একটি পদ্ধতি হিসেবে কাজে লাগতে পারে। কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশেষভাবে নির্ধারিত নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে মানব চুলের কোষে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক পরীক্ষাগারে প্রায় ৯২ শতাংশ কমানো গেছে। গবেষণার ফলাফল ন্যাচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন এই চিকিৎসায় লক্ষ্য করা হচ্ছে হিউম্যান ডার্মাল প্যাপিলা সেল, যা চুলের ফলিকলের গোড়ায় অবস্থিত এবং চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চুলের ফলিকল বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটা-গ্যালাক্টোসিডেজ নামের একটি এনজাইম বেশি পরিমাণে তৈরি করে। এটি কোষের বার্ধক্যের একটি স্বীকৃত জৈব-চিহ্নক, যা চুল পড়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
গবেষকদের মতে, তাদের তৈরি বিশেষ নিয়ার-ইনফ্রারেড অর্গানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড সিস্টেম দিয়ে চুলের কোষে আলো প্রয়োগ করার পর, চিকিৎসা না পাওয়া কোষের তুলনায় বার্ধক্যের এই সূচক প্রায় ৯২ শতাংশ কমে যায়।
এই আলোকে ৭৩০ থেকে ৭৪০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে নির্ধারণ করা হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, এই তরঙ্গদৈর্ঘ্য চুল পুনরুৎপাদনে ভূমিকা রাখা কোষগুলোকে সক্রিয় করার জন্য উপযোগী।
চুল পড়ার চিকিৎসায় সম্ভাবনা
চুল পড়া বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বংশগত বা প্যাটার্নড হেয়ার লসের শিকার হন। বর্তমানে চুল পড়ার চিকিৎসায় মিনোক্সিডিল এবং ফিনাস্টেরাইডর মতো ওষুধ ব্যবহৃত হয়। তবে এসব চিকিৎসার কিছু সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।
তবে নতুন এই লাইট থেরাপি হ্যাটটি এখনো মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়নি। গবেষকরা জানিয়েছেন, এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য আরও প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন। এরপরই এটি মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা যাবে।
সূত্র: এনডিটিভি
