একাই ১৯৮ মুসলিম ভোটারের নাম কাটার আবেদন, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বেলগাভিতে ১৯৮ জন মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি নেতা রবি পাটিলের বিরুদ্ধে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। পুলিশের দাবি, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের ক্ষেত্রে ভুয়া নথি ও ভুল তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেলগাভি মার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারী ছিলেন বেলগাভি উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বুথ স্তরের এজেন্ট মীরাসাব সানাদি।
তার অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন ২২ সেপ্টেম্বর কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে হাজির হয়ে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রবি পাটিল, শংকর বীরাপ্পা নায়েক, প্রশান্ত দীপক মুন্দিনমণি-সহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন ওই কাজে যুক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বীরভদ্রনগরের ১৯৫ ও ১৯৬ নম্বর ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে থাকা ১৯৮ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন তৈরির অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটারদের নাম ও অন্যান্য তথ্য আগে থেকেই ওই আবেদনপত্রে লেখা ছিল। কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া নথি ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসার পর তারা কয়েকজনকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ এই ঘটনায় প্রতারণা, জাল নথি তৈরি ও ব্যবহার, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা করেছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। পুলিশ তদন্ত করছে এবং ১৯৮ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে ইতোমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা সামনে আসার পর কর্ণাটকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার অভিযোগ করেছেন, যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায় বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে প্রতিবাদও করেছেন।
অন্যদিকে বিজেপির বেলগাভির সাংসদ জগদীশ শেট্টার এফআইআর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে অভিযোগ তোলার কারণে বিজেপি নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা ঠিক নয়। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে কর্ণাটকে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

