ফ্লাইদুবাইয়ের সেই পাইলট তদন্তকারীদের কী বলেছিলেন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
হাম্মাম আল-হামামি। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলগামী যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি। সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তদন্তকারীদের এ কথা জানান।
আল-হামামি বলেছিলেন, তিনি বিমানটি ইচ্ছা করেই ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন এবং ‘মৃত্যুকে ভয় পান না’—ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হামামি কীভাবে উগ্রবাদী চিন্তাধারায় জড়িয়ে পড়লেন এবং তার কর্মকাণ্ড নিয়ে কর্তৃপক্ষের আগের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি আবার ককপিটে ফেরার সুযোগ পেলেন—এখন তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামামির প্রথম বিমান সংস্থা ছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওমান এয়ার। কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, তিনি উগ্রবাদী ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করতেন। এরপর তাকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
পরে তাকে একটি উগ্রবাদমুক্তকরণ বা ডির্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয় এবং বিমান চালানোর বদলে ডেস্কের কাজে দেওয়া হয়।
ওমান এয়ার ছাড়ার পর হামামি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরি পান। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে নিয়োগ দেয় ফ্লাইদুবাই।
তবে তার আগের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ফ্লাইদুবাই কতটা তথ্য পেয়েছিল, কিংবা তাকে নিয়োগ দেওয়ার আগে ওমানের কাছে কোনো তথ্য চাওয়া হয়েছিল কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামামিকে যাচাই করার জন্য অন্য কোনো দেশ ওমানের কাছে তথ্য চেয়েছিল—এমন কোনো অনুরোধ ওমান পায়নি। হামামির সিরিয়ায় কাটানো সময় নিয়েও তদন্ত চলছে।
তদন্ত সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সিরিয়ায় থাকার সময় হামামি উগ্রবাদী চিন্তাধারায় জড়িয়ে পড়েছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে সময় বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল।
হামামির পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তার মুছে ফেলা এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের ৩ হাজারের বেশি স্ক্রিনশট এখনো ইন্টারনেট আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে হামলা করেন হামামি। ককপিটের ক্র্যাশ অ্যাক্স ব্যবহার করে তিনি ক্যাপ্টেনকে আঘাত করেন এবং পরে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এরপর বিমানটি মাত্র প্রায় ৩০ সেকেন্ডে ১৬ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন।
তখন যাত্রী ও ক্রুরা মিলে হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা দায়িত্বের বাইরে থাকা দুজন পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করেন। শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।
জরুরি অবতরণের পর হামামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে অবগত এক সৌদি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামামি স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন এবং মৃত্যুকে তিনি ভয় পান না।
এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইসরাইলের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—হামামি একাই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন, নাকি এর সঙ্গে কোনো বাইরের গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল।


