হামলাকারীকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়েছিল বিমানের যাত্রীরা, নেপথ্যে কী?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ এএম
কথিত হামলাকারীকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়েছিল যাত্রীরা। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের কথিত হামলার পর ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন ১৭৪ যাত্রী। হামলার শিকার ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার পর যাত্রীদের কয়েকজন দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরে বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিরাপদে অবতরণ করান।
ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিমানটিতে ২৭ শিশুসহ মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, যাত্রীরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হামলাকারী হামাম আল-হামামিকে অক্সিজেন মাস্কও দেন।
ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ এর বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার শুরুতে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে হামলা করেন ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট হামাম। গুরুতর আহত অবস্থায় মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন। তার কাছ থেকে পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর চার ইসরাইলি যাত্রী ককপিটে ছুটে যান। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট। একপর্যায়ে যাত্রীরা হামামিকে কাবু করে তার হাত পেছনে বেঁধে ফেলেন।
যাত্রীদের একজন ইয়ানিভ হায়ুন হামামিকে চেপে ধরেন। আরেক যাত্রী আসাফ রাজুয়ান তাকে কাবু করতে সহায়তা করেন। জভিকা মানেস ইয়ারফোন ব্যবহার করে তার হাত বেঁধে দেন। অন্যদিকে দন্ত চিকিৎসক শোটা মুসায়েভ গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এদিকে দুই অফ-ডিউটি পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের একটি ছোট বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ঘটনার পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামামি বিমানের ভেতরে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন এবং তার হাত পেছনে বাঁধা। তার পোশাকে রক্তের দাগও দেখা যায়। যাত্রীদের বারবার বলতে শোনা যায়, ‘শুধু পুলিশ’ এবং ‘পুলিশের কাছেই দাও।’
ঘটনায় অংশ নেওয়া যাত্রীরা জানান, তারা হামামিকে হত্যা করতে চাননি। তাকে জীবিত রেখে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন, যাতে পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত করা যায়। এ কারণেই তাকে অক্সিজেন মাস্কও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তারা।
তবে যাত্রীদের দাবি, বিমানের কেবিন ক্রুরা হামামিকে ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে ক্রুদের তর্কও হয়। যাত্রীরা শেষ পর্যন্ত সহ-পাইলটকে ছেড়ে দিতে রাজি হননি।
ঘটনায় ক্যাপ্টেন মাচ্ছার গুরুতর আহত হন। তার মাথা ও হাতে গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় বলে বিমানে থাকা চিকিৎসক জানান।
তবে শেষ পর্যন্ত বিমানের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের সাহসিকতা এবং যাত্রীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
মাচ্ছার চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করছেন। তার বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ১৩ বছরের বেশি এবং তিনি ৯ হাজার ৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়োজাহাজ চালিয়েছেন।

-6ac1c3fed5152.jpg)
