যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পরই পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি!
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ পিএম
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগত। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে তিন নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানির হয়রানির অভিযোগ ওঠার দুই দিনের মাথায় সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতকে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অ্যাডিশনাল ডিসিপি) পদমর্যাদায় পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) জারি করা এক আদেশে ভগতসহ ড্যানিপস ক্যাডারের (দিল্লি, আন্দামান ও নিকোবর, লাক্ষাদ্বীপ, দমন ও দিউ এবং দাদরা ও নগর হাভেলি পুলিশ সার্ভিস) ১২ কর্মকর্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৩ অক্টোবর রাজধানীর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা তিন নারী সাংবাদিকের অভিযোগ ক্রাইম ব্রাঞ্চে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আদেশে ভগত ছাড়াও ড. বিকাশ শেওকান্দ, এ ভেঙ্কটেশ, গুরুসেবক সিং, রেণু লতা, বিদুষী কৌশিক, মনু হিমাংশু, সাকারিয়া মিহির প্রবীণভাই, গরিমা তিওয়ারি, আশীষ কুমার, মনীশ লাডলা ও রোহিত গুপ্তের নাম রয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, ১২ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত ডিসিপির নিয়মিত দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তারা অতিরিক্ত ডিসিপির আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে এসব পদে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিলে এই সাময়িক ব্যবস্থা শেষ হবে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ডিসিপি পদে দায়িত্ব পালনের জন্য তারা কোনো অতিরিক্ত বেতন বা ভাতা পাবেন না। এই সাময়িক দায়িত্ব তাদের ওই পদে কোনো জ্যেষ্ঠতা দেবে না এবং পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা বা নিয়মিত পদোন্নতির তারিখেও কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ না দেখিয়েও এ ব্যবস্থা বাতিল করা যেতে পারে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
যন্তর মন্তরে কী ঘটেছিল
গত ৩ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগ দাবি করেন।
বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক পুলিশ সদস্যদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। তাদের একজন সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, বিক্ষোভকারীদের আটক করা হলেও ঘটনাস্থলে নারী পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখতে না পেয়ে তিনি এসিপি বিবেক ভগতের কাছে যান।
ওই সাংবাদিকের অভিযোগ, নারী পুলিশ সদস্য না থাকার বিষয়ে ভগতকে প্রশ্ন করলে তিনি তাকে যৌন হয়রানি করেন এবং পেছনের দিকে ধাক্কা দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তিনি ও অন্য নারীরা এ ঘটনায় মামলা নিতে একটি থানায় যান। তবে শুরুতে তাদের অভিযোগের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রোববার নয়াদিল্লি জেলা পুলিশ জানায়, তিন নারী সাংবাদিকের অভিযোগ তারা পেয়েছে এবং তা ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার দিল্লি পুলিশের
নারী সাংবাদিকদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি পুলিশ। এক বিবৃতিতে পুলিশ এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে।
পুলিশ জানায়, নারী বিক্ষোভকারীদের নারী পুলিশ সদস্যরাই সামলেছেন এবং তাদের ‘মর্যাদা ও যথাযথ সম্মান’ দেওয়া হয়েছে। আটক ও মুক্তির ক্ষেত্রে আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
দিল্লি পুলিশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটক পুরুষ বিক্ষোভকারীদেরও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীত কোনো দাবি প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করেছে পুলিশ।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


