ইনফ্লুয়েন্সার টেইটের ডিভাইসে ১৬৮ আপত্তিকর ছবি-ভিডিও, আদালতে নতুন তথ্য
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেইট। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রিটিশ-আমেরিকান ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেইট অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে নিয়ে যৌন ভিডিও তৈরি ও তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ প্রসিকিউটররা। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দাখিল করা নতুন নথিতে এ অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দাখিল করা ওই নথি টেইটকে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের আবেদনের অংশ। এতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে গ্রেফতারের পর তার বাড়ি থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপে একটি মেয়ের ১৬৮টি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে ৬৬টি ‘ক্যাটাগরি এ’ এবং ২৬টি ‘ক্যাটাগরি বি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ভিডিও ধারণের সময় মেয়েটির বয়স ছিল ১৭ বছর। সে সময় টেইটের বয়স ছিল ২৮। ব্রিটিশ প্রসিকিউটরদের দাবি, মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক- এ বিষয়টি টেইট জানতেন।
নথিতে বলা হয়েছে, অন্তত একটি ভিডিওতে মেয়েটিকে টেইটের সঙ্গে ‘যৌনধর্মী পরিস্থিতিতে’ দেখা যায়। পরে টেইট ওই ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের জব্দ করা একটি ‘ক্যাটাগরি বি’ ভিডিওতে টেইটকে বিছানায় বসে ক্যামেরার দিকে কথা বলতে দেখা যায় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মেয়েটিকে অন্তর্বাস পরা অবস্থায় টেইটের পেছনে অবস্থান করতে এবং তার ঘাড়ে চুমু দিতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে এক প্রাপ্তবয়স্ক নারী ওই মেয়েটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন বলেও নথিতে বলা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, মেয়েটি ২০১৪ সালে বিদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসে এবং সেখানে পৌঁছানোর পরপরই টেইটের ওয়েবক্যামভিত্তিক যৌন ব্যবসায় কাজ শুরু করে। টেইটের বাড়ি থেকে পাওয়া মেয়েটির পাসপোর্টে দেখা যায়, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে টেইট গ্রেফতার হওয়ার সময়ও তার বয়স ১৭ বছর ছিল।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, টেইটের ডিভাইস থেকে জব্দ করা অন্য কিছু ভিডিওতে চরম যৌন নির্যাতনের দৃশ্য ছিল। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে জীবন্ত ঈলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ড এবং আরেকটিতে জীবন্ত ঘোড়ার সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের দৃশ্য থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
দি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রসিকিউটরদের উপস্থাপন করা একটি বার্তা বিনিময়ের তথ্যেও টেইট মেয়েটির বয়স সম্পর্কে জানতেন বলে দাবি করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির কথোপকথনে ১৭ বছর বয়সি মেয়েটি টেইটকে জানিয়েছিল, তার বাবা-মা জানতে পেরেছেন যে সে তার হয়ে কাজ করছে এবং তাকে যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
জবাবে টেইট মেয়েটিকে বাড়ি যেতে দেবেন না বলে ইঙ্গিত দেন এবং তার বাবা পুলিশকে জানাতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই কথোপকথনে তিনি মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় আইনি সমস্যা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছিলেন বলে নথিতে বলা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের আরও অভিযোগ, ২০১৫ সালের জুনে টেইট অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটির ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে আরও তিনজনের সঙ্গে শেয়ার করেন। তিনি সেখানে মেয়েটি তার ওয়েবক্যাম ব্যবসায় কাজ করে বলেও দাবি করেছিলেন। এমনকি ক্যামেরার সামনে নির্দিষ্ট একটি যৌন কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে তাকে প্রতিদিন ১ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান টেইট।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রিটিশ পুলিশের হাতে এসব তথ্য পাওয়ার পরও ২০১৫ সালে টেইটের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ আনা হয়নি, নতুন আদালত নথি প্রকাশের পর তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই বছরই মামলাটি বন্ধ হয়ে যায়।
পরের বছর টেইট রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’-এ অংশ নেন। তবে একজন নারীকে বেল্ট দিয়ে মারধরের একটি ভিডিও সামনে আসার পর ছয় পর্বের মাথায় তাকে অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরে টেইট ও তার ভাই ট্রিস্টান টেইট তাদের ওয়েবক্যাম ব্যবসা রোমানিয়ায় সরিয়ে নেন। ২০২২ সালে মানবপাচারের তদন্তে দেশটিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা গৃহবন্দি ছিলেন।
২০২৪ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালে রোমানিয়ান প্রসিকিউটররা তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর তারা ব্যক্তিগত বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্রিটিশ প্রসিকিউটরদের অনুরোধে মিয়ামিতে অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেইটকে গ্রেফতার করা হয়। যুক্তরাজ্য তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট ৫৯টি অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণ ও যৌন পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেইট সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নারীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সবসময় সম্মতিপূর্ণ ছিল বলেও দাবি করেছেন তারা।
নতুন নথিতে ব্রিটিশ প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেছেন, দুই ভাই একই ধরনের নিয়োগ, প্রলোভন, নিয়ন্ত্রণ ও জবরদস্তির কৌশল ব্যবহার করতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বৃহত্তর যৌন শোষণের একটি ধারাবাহিকতার অংশ।
এ ছাড়া একাধিক নারী টেইটের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তাদের কয়েকজনের দাবি, সম্মতিবিহীন যৌন কর্মকাণ্ডের আগে ও সময় টেইট তাদের বারবার গলা চেপে ধরতেন। একজন নারী অভিযোগ করেছেন, এত জোরে তার গলা চেপে ধরা হয়েছিল যে তিনি মনে করেছিলেন তার মাথা ‘ফেটে যাবে’ এবং পরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

-Recovered-6ac4a003bfd68.jpg)

-Recovered-6ac49e49727a7.jpg)