Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

যেভাবে ভারতের বাজার চীনের ওপর বিপজ্জনকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ল

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

যেভাবে ভারতের বাজার চীনের ওপর বিপজ্জনকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ল

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কমলেও অর্থনীতিতে দেশটির ওপর ভারতের নির্ভরতা আরও বাড়ছে। গত ছয় বছরে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ৪৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে চীন থেকে ভারতের আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হলেও দেশটিতে ভারতের রপ্তানি মহামারির আগের পর্যায়ের নিচেই রয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আমদানির বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ১৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে ভারতীয় শিল্পে চীনের প্রভাব আরও বাড়বে।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের চায়না অ্যানালাইসিস সেন্টারের ফেলো কেভিন জংঝে লি বলেন, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকার সময়ও চীনের ওপর ভারতের অর্থনৈতিক নির্ভরতা বেড়েছে।

দিল্লিভিত্তিক গ্লোবাল ট্রেড অ্যান্ড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, ভারতের শিল্পপণ্যের আমদানির ৩০ শতাংশের বেশি এখন চীন থেকে আসে। ১০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্য ভারত চীনের ওপর নির্ভরশীল।


খেলনা খাতে ব্যতিক্রমী সাফল্য

চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ভারতের খেলনা শিল্পকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং নিম্নমানের খেলনা ঠেকাতে ছয় বছর আগে আমদানি করা খেলনার ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ এবং পরে ৭০ শতাংশ করা হয়। এর ফলে চীন থেকে খেলনা আমদানি কমেছে। 

২০২০ সালে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের খেলনা আমদানি হলেও চলতি বছরে তা কমে ১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ভারতের খেলনা রপ্তানি প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ২০ কোটি ডলারে উঠেছে।

একসময় ভারতের খেলনা বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ চীনের দখলে ছিল। শুল্ক বৃদ্ধি ও মান নিয়ন্ত্রণের কারণে এই নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে অন্যান্য শিল্পে একই ধরনের সাফল্য অর্জন করতে পারেনি ভারত।

পণ্য নয়, উৎপাদনেও চীনের ওপর নির্ভরতা

ভারতের চীনের ওপর নির্ভরতা শুধু তৈরি পণ্য আমদানিতে সীমাবদ্ধ নেই। শিল্প উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল ও উপকরণের জন্যও দেশটি চীনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

স্মার্টফোন ও সৌর সরঞ্জামের মতো তৈরি পণ্যের আমদানি কমিয়ে ভারত নিজস্ব উৎপাদন বাড়িয়েছে। বিশ্বের এক-চতুর্থাংশের বেশি আইফোনও এখন ভারতে তৈরি হয়। তবে এসব পণ্যের উৎপাদন মূলত সংযোজননির্ভর এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের বড় অংশ চীন থেকে আসে। শিল্পযন্ত্র, ব্যাটারির উপকরণ, রাসায়নিক, সৌর সেল এবং উৎপাদন সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট আমদানির মধ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক পণ্যের অংশ ৩৬ শতাংশ। যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল সরঞ্জামের অংশ ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। জৈব রাসায়নিক ও প্লাস্টিকও আমদানিতে বড় অংশ দখল করে আছে।

ফাউন্ডেশনের গবেষক সৌম্য ভৌমিক বলেন, এসব পণ্যের সরবরাহ বন্ধ হলে শুধু ভোক্তাদের ওপর প্রভাব পড়বে না, ভারতের উৎপাদন ব্যবস্থাও ব্যাহত হবে। স্থানীয়ভাবে চীনা উপকরণের বিকল্প তৈরি করতে ভারতের সীমাবদ্ধতাই এতে ফুটে ওঠে।


চীনের অতিরিক্ত উৎপাদনও বাড়াচ্ছে আমদানি

চীনের শিল্পখাতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতাও ভারতে আমদানি বাড়ার অন্যতম কারণ। ইস্পাত, সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক গাড়িসহ বিভিন্ন খাতে চীনের উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন শোষিত হচ্ছে না। ফলে চীনা নির্মাতারা কম দামে বিদেশি বাজারে পণ্য বিক্রি বাড়াচ্ছেন। এছাড়া চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

চীনের বাজারে ভারতের প্রবেশও কঠিন

চীনের ওপর ভারতের নির্ভরতা বাড়লেও ভারতীয় পণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশ সহজ নয়। ভারতের পণ্য চীনে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন শুল্ক ও অশুল্ক বাধার মুখে পড়ে বলে বিশ্লেষকদের দাবি।

কেভিন জংঝে লির মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও যদি পারস্পরিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নত হলেও অর্থনৈতিক নির্ভরতার চিত্র বদলাবে না।

গত সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দেশের ‘কাঠামোগত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা’ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেন।

তবে শিল্প অর্থনীতিতে চীনা উপকরণের গভীর সংযোগ থাকায় দ্রুত এ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্ভরতা কমাতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ

বিশ্লেষকদের মতে, চীনা আমদানির ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো ভারতের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো। এ জন্য খাতভিত্তিক শিল্পনীতি এবং সস্তা বিদ্যুৎ, সহজলভ্য ঋণ, দক্ষ পরিবহনব্যবস্থা ও স্থিতিশীল নীতিমালা প্রয়োজন।

ভারত সম্প্রতি বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের কিছু নিয়মও শিথিল করেছে। এর ফলে চীনা কোম্পানিগুলোর ভারতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের বিনিয়োগ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কেন গ্রেফতার হলেন বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির?

কেন গ্রেফতার হলেন বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির?

ধসে যাচ্ছে ভারতের শেয়ারবাজার, নেপথ্যে ৫ কারণ

ধসে যাচ্ছে ভারতের শেয়ারবাজার, নেপথ্যে ৫ কারণ

যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পরই পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি!

যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পরই পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি!

এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে

এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে

বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির গ্রেফতার

বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির গ্রেফতার

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে ইন্ডিয়া জোট

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে ইন্ডিয়া জোট

আরও পড়ুন

কেন গ্রেফতার হলেন বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির?

কেন গ্রেফতার হলেন বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির?

সিএনএন বিশ্লেষণ ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু বিশ্বজুড়ে ‘অপ্রতিরোধ্য ট্রাম্পবাদ’

ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু বিশ্বজুড়ে ‘অপ্রতিরোধ্য ট্রাম্পবাদ’

ইনফ্লুয়েন্সার টেইটের ডিভাইসে ১৬৮ আপত্তিকর ছবি-ভিডিও, আদালতে নতুন তথ্য

ইনফ্লুয়েন্সার টেইটের ডিভাইসে ১৬৮ আপত্তিকর ছবি-ভিডিও, আদালতে নতুন তথ্য

২০০৭ সালের ভিডিওতে নাৎসি স্যালুট, ক্ষমা চাইলেন সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী

২০০৭ সালের ভিডিওতে নাৎসি স্যালুট, ক্ষমা চাইলেন সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম