Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার ৩ বছর, কী কী ঘটেছিল সেদিন

Advertisement

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ এএম

ইসরাইলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার ৩ বছর, কী কী ঘটেছিল সেদিন

Advertisement

দখলদার ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে পুরো বিশ্বকে অবাক করে ‍দিয়েছিলেন ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের যোদ্ধারা। হামাসের বন্দুকধারীরা সেদিন সীমান্ত দেয়াল ভেঙে ইসরাইলি গ্রাম কিবুৎযিম, সামরিক চৌকি ও নোভা মিউজিক উৎসব তছনছ করে দিয়েছিল।

ওই ঘটনায় ইসরাইলের শক্তিশালী সেনাবাহিনী অপ্রস্তুত এবং হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। পাশাপাশি এটি গাজায় এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল, যার ক্ষতচিহ্ন আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।

ভয়াবহ সেই হামলার তিন বছর পূর্তিতে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) স্মরণসভায় মিলিত হচ্ছেন ইসরাইলিরা। 

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে সেদিন কী ঘটেছিল

নাহাল ওজ নামের ওই ঘাঁটি ৭ অক্টোবর সকালে দখলে নিয়েছিলেন হামাসের যোদ্ধারা।ওই ঘাঁটির ৬০ ইসরাইলি সেনা নিহত হন। অন্যদের জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই ঘাঁটির সেনাদের চোখে ৭ অক্টোবরের আগে কিছু সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ধরা পড়ে। শুধু সীমান্তের নজরদারি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নারী সেনাদের চোখেই যে ধরা পড়েছে তা নয়। সেনারা দেখতে পান, হামলার কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই হামাসের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। হামলার সময় অনেক ইসরাইলি সেনা ছিলেন নিরস্ত্র এবং দাপ্তরিক নিয়মের কারণে হামলার সময় সেনাদের সামনে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে পিছু হটতে হয়েছে। এ ছাড়া কিছু নজরদারি ক্যামেরা হয় অকার্যকর ছিল কিংবা হামাস সহজেই ধ্বংস করতে সমর্থ হয়েছিল।

নাহাল ওজ ঘাঁটি গাজার সীমান্তবেড়া থেকে এক কিলোমিটার দূরে ছিল। ৭ অক্টোবর ভোর চারটায় নিজের পালার দায়িত্ব পালন শুরু করেন নারী সেনাসদস্য শ্যারন (এটা তার প্রকৃত নাম নয়)। ওই ঘাঁটির ‘তাৎজপিতানিয়ত’ শাখার সদস্য ছিলেন তিনি। এই শাখার সব সদস্যই নারী। সীমান্তবেড়ার সঙ্গে বসানো নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা ছিল তাদের কাজ।

এই নারী সেনা সদস্যরা পালা করে ‘হামাল’ নামে পরিচিত ঘাঁটির যুদ্ধকক্ষে বসে কাজ করতেন। সেখানে থাকা মনিটরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা গাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতেন।

ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই দিন ঘাঁটিতে অনেক সামরিক সদস্য নিরস্ত্র ছিলেন।

তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অপারেশন ডিভিশনের সাবেক প্রধান জেনারেল ইসরায়েল জিভ বলেছিলেন, তার দায়িত্ব পালনের সময় সীমান্ত এলাকায় কখনো সেনারা নিরস্ত্র ছিলেন না।

অন্যান্য দিনের মতো সকাল হওয়ার আগে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সীমান্তের ইসরাইলি অংশে গাড়িতে করে টহল দেওয়ার প্রস্তুতি নেন গোলানি ইউনিটের সদস্যরা। কিন্তু তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টহল বিলম্বে শুরু করার এবং ট্যাংক–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি থাকায় পিছু হটার নির্দেশনা দেন। ওই সেনাদলের তিনজন এমন কথা জানিয়েছেন।

জেনারেল জিভের ভাষ্য, দাপ্তরিক নিয়মের কারণে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া এড়াতে এ ধরনের পিছু হটার নির্দেশনা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নিয়মের মধ্যে পড়ে। তবে তিনি বলেন, হামাস বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল এবং এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছিল।

গোলানি ইউনিটের সদস্যরা যখন সীমান্তে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, হামাস যোদ্ধাদের চলাফেরা শ্যারনের নজরে পড়ে। তবে বিষয়টি অন্য কয়েকটি দিনের চেয়ে আলাদা কিছু মনে হয়নি।

সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে রকেট ছুড়তে শুরু করে হামাস। কিন্তু শ্যারন আবারও বললেন, এটি তাৎক্ষণিক সতর্ক করার মতো কিছু মনে হয়নি। এ ধরনের রকেট হামলা দেখতে আগে থেকেই তিনি অভ্যস্ত এবং এসব রকেট থেকে ঘাঁটিটি ভালোভাবেই সুরক্ষিত।

শ্যারন বলেন, ‘সাধারণত পাঁচ মিনিট ধরে রকেট ছোড়া হয় এবং এরপর বিরতি দেওয়া হয়।’ এবার কিন্তু কোনো বিরতি দেওয়া হচ্ছিল না।

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শ্যারন দেখতে পান, হামাসের বাহিনী সীমান্তের কাছে আসতে শুরু করেছে। এ সময় স্থলবাহিনীকে সতর্ক করতে রেডিওতে বার্তা পাঠাতে শুরু করেন এই তাৎজপিতানিয়ত সদস্য।

সীমান্তের কথিত লোহার প্রাচীরটি দীর্ঘকাল ধরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও সাধারণ ইসরাইলিরা দুর্ভেদ্য হিসেবে দেখেছিল। অথচ দেশটির ঘাঁটিগুলোই তখন সে প্রাচীর ভেঙে ফেলার খবর দিতে শুরু করেছিল। ওই পালায় নাহাল ওজ ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেক তাৎজপিতানিয়ত সীমান্তবেড়ার দুটি থেকে পাঁচটি জায়গায় বেড়া ভেঙে ফেলতে দেখেন।

৬টা ৪০ মিনিটের দিকে রকেটের আঘাতে নাহাল ওজ ঘাঁটির একটি নজরদারি পোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামালের ওপর স্নাইপারদের অবস্থান নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দূর থেকে বন্দুকধারীদের গুলি করার চেষ্টা করেন একজন কর্মকর্তা। বন্দুকধারীরা একের পর এক নজরদারি ক্যামেরায় গুলি করতে থাকলে যুদ্ধকক্ষের মনিটরের স্ক্রিন কালো হয়ে যায়।

সকাল সাতটার কিছুক্ষণ পর সেই ক্ষণ এসে হাজির। সবাই ভীতসন্ত্রস্ত। কী হতে যাচ্ছে, কেউই কল্পনা করতে পারছিল না। যুদ্ধ কক্ষের দরজায় এসে হাজির হামাসের বন্দুকধারীরা। তাৎজপিতানিয়ত শাখার সদস্যদের নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধকক্ষের ভেতরের একটি কার্যালয়ে যেতে বলা হয়।

সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে যুদ্ধকক্ষের বাইরের একটি বোম্ব শেল্টারে হামলা চালানো হয়। সেখানে অন্যদের মধ্যে দায়িত্বে না থাকা তাৎজপিতানিয়ত সদস্যরাও ছিলেন।

সকাল আটটার দিকে যুদ্ধকক্ষে হামলা শুরু হয়, ব্যাপক গুলি করা হয়। যাদের হাতে অস্ত্র ছিল, তারা ভবনের দরজায় লড়ছিলেন, যাতে হামাস সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন। প্রায় চার ঘণ্টা লড়াই চলতে থাকে।

ওই দিন নাহাল ওজ ঘাঁটিতে প্রতি ২৫ জন কমব্যাট সেনার বিপরীতে ১৫০ বন্দুকধারী প্রবেশ করেছিলেন।

জেনারেল জিভ বলেন, ‘সীমান্তবেড়ার ৭০টির বেশি জায়গা ভেঙে তিন হাজার হামাস যোদ্ধা ঢুকে পড়েছিল। তারা জানত, তাদের বেশি দক্ষতা নেই ,তাই তারা সংখ্যায় জোর দিয়েছিল।’

সকাল নয়টার দিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে বন্দুকধারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্যারনসহ সাতজন যুদ্ধকক্ষ থেকে টয়লেটের জানালা বেয়ে বের হওয়ার পথ খুঁজে পান। ঘাঁটির ওই পালায় দায়িত্বরত তাৎজপিতানিয়ত সদস্যদের মধ্যে শুধু শ্যারন বেঁচে ছিলেন। অন্যরা হয় নিহত হয়েছেন বা তাদের ধরে নিয়ে যায় হামাসের বন্দুকধারীরা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হামাস কি পুনরায় গাজা শাসন করতে পারবে?

গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার ৩ বছর হামাস কি পুনরায় গাজা শাসন করতে পারবে?

ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

সিআইএ’র প্রতিবেদন ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

২৭ ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের হুমকি দিল যুক্তরাজ্য

২৭ ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের হুমকি দিল যুক্তরাজ্য

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রেখেছিল ইসরাইল

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রেখেছিল ইসরাইল

সৌদি উপকূলে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল মার্কিন হেলিকপ্টার

সৌদি উপকূলে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল মার্কিন হেলিকপ্টার

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমান নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমান নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল

আরও পড়ুন

স্বর্ণের দরপতন

স্বর্ণের দরপতন

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ৫০০

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ৫০০

গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার ৩ বছর হামাস কি পুনরায় গাজা শাসন করতে পারবে?

হামাস কি পুনরায় গাজা শাসন করতে পারবে?

তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ক্যানসার আক্রান্তের হার, কারণ কী?

তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ক্যানসার আক্রান্তের হার, কারণ কী?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম