Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

লগইঙ্ক কী, কেন এটি অচল হয়ে পড়ল?

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

লগইঙ্ক কী, কেন এটি অচল হয়ে পড়ল?

ছবি: রয়টার্স

Advertisement

চীন একটি শক্তিশালী ‘বাণিজ্যিক অস্ত্র’ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে চার বছর আগে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ‘লগইঙ্ক’ নামের ওই প্ল্যাটফর্ম ছিল রাষ্ট্রীয় মদতে গড়া একটি ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা। বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহণের প্রবাহ সম্পর্কে নজিরবিহীন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এটি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

লগইঙ্কের লক্ষ্য ছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, বন্দর ও তৃতীয় পক্ষের পরিবহণ পরিষেবাগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহণ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও গতিশীল করা। এর ফলে কাগজভিত্তিক প্রথাগত পদ্ধতির আর প্রয়োজন হতো না।

তবে বাস্তবে এই উদ্যোগটি এক নাটকীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শিপিং শিল্পের ২০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার এবং আইনি নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে জানা গেছে, এর প্রধান বৈশ্বিক অংশীদারত্বের কার্যক্রম থমকে গেছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা থেকে সরে এসেছে এবং বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে দেশের ভেতরেই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে একজন সাংবাদিক যখন উপকূলীয় শহর ওয়েনঝুতে লগইঙ্কের অপারেশনস হাব পরিদর্শন করেন, তখন অফিসটিকে পরিত্যক্ত বলে মনে হয়েছিল। সেখানে আলো ছিল না, অভ্যর্থনা কক্ষ ছিল জনশূন্য এবং কম্পিউটার সংযোগের তারগুলোও খুলে ফেলা হয়েছিল।

লগইঙ্কের কাছে ফোন ও ইমেল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চীনের পরিবহণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে জুন মাসে মন্ত্রণালয় একটি নীতি-নির্দেশিকা প্রকাশ করে, যেখানে এই ব্যবস্থাকে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ তথ্যের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে লগইঙ্কের এই সরে আসা বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা। বিশ্ব বাণিজ্যের ৮০ শতাংশই যে খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—সেই বৈশ্বিক পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার মূল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের যে লড়াই চলছে, তাতে এটি একটি বড় বাধা। ২০২২ সালে লগইঙ্ক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশকারী মার্কিন কংগ্রেস কমিশনের চেয়ারম্যান র‌্যান্ডাল স্ক্রাইভার বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের পতনকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে। কারণ যারা এই ব্যবস্থা ব্যবহার করত তাদের নাম প্রকাশ করে ও জনসমক্ষে সমালোচনার মাধ্যমে লগইঙ্কের বিপর্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রেখেছিল।

চীনের মন্ত্রিসভা যে প্ল্যাটফর্মটিকে একটি ‘মূল প্রকল্প’ হিসেবে তুলে ধরেছিল, তা কেন হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ল এবং কীভাবে আর্থিক ও আইনি সংকটে জড়িয়ে পড়ল—তার সুনির্দিষ্ট কারণ রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব মিত্র দেশ ও বিভিন্ন সংস্থা লগইঙ্কের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ প্রচেষ্টায় সহযোগী হতে চেয়েছিল, তাদের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করেছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই লগইঙ্কের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার খবর এলো।

মার্কিন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বেইজিং এই ব্যবস্থাটি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক পণ্য, পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য সংক্রান্ত এমন সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যা চীনা কোম্পানিগুলোকে পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসবে। কারও কারও আশঙ্কা, লগইঙ্কের মাধ্যমে স্পর্শকাতর সামরিক চালান যেমন ইউক্রেন ও তাইওয়ানে পাঠানো মার্কিন অস্ত্র নজরদারি করা হতে পারে, যার অনেক কিছুই বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আনা-নেওয়া করা হয়।

লগইঙ্ক তাদের সংগৃহীত তথ্যের প্রকৃত ধরন ও পরিধি সম্পর্কে জনসমক্ষে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ২০২৪ সালে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ে জমা দেওয়া এক নথিতে লগইঙ্কের কর্মকর্তা লি ঝাও দাবি করেন, তাদের ‘স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক তথ্য সংগ্রহ করার কিংবা বিশ্বজুড়ে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতা’ নেই।

বিশ্বজুড়ে লগইঙ্কের ব্যবহার সীমিত করার লক্ষ্যে গৃহীত কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তবে তিনি বলেন, বেইজিং নিয়ন্ত্রিত কোনো প্ল্যাটফর্মকে ‘বিশ্বের সামুদ্রিক বা নৌ-বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্যের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না ওয়াশিংটন।

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামোতে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি এবং আমাদের মিত্র দেশ ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতকেও আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা এই হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।’


লগইঙ্ক কী?

লগইঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় পরিবহন ও লজিস্টিকস পাবলিক ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে পরিচিত। দুই দশক আগে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে একটি স্থানীয় সরকারি প্রকল্প হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। এর লক্ষ্য ছিল বন্দর, ট্রাক এবং বিক্রেতাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি একক ও অনুসন্ধানযোগ্য প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে পণ্য পরিবহণের সমন্বয় সাধন করা।

বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারকদের সমর্থন পাওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ চীনের পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক পরিসরে এর সম্প্রসারণ দ্রুতই অগ্রাধিকার পায়।

২০১০ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের সঙ্গে পণ্য-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে চীন, যার মাধ্যমে লগইঙ্ককে ওই দেশগুলোর জাতীয় লজিস্টিকস তথ্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

এর কয়েক বছর পর হংকংভিত্তিক একটি লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে লগইঙ্ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চীনা প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই চুক্তির ফলে তারা ‘বিশ্বের ৯০ শতাংশেরও বেশি জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা’ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

জাতিসংঘের একটি কমিশনের কাছে ২০১৫ সালে চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রেজেন্টেশনে বলা হয়, লগইঙ্ক হবে ‘বিশ্বব্যাপী লজিস্টিকস তথ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত একটি ওয়ান-স্টপ পোর্টাল’।

২০২০ সালের আগে ইউরোপীয় বন্দরগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের উপায়ও খুঁজছিল লগইঙ্ক। কিন্তু ২০২২ সালে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা প্রকাশ্যে এই চীনা প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করেন।

ওই বছরের এপ্রিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। লগইঙ্ক এমন একটি আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদান প্রকল্পে যুক্ত হয়, যা বন্দরগুলোতে পণ্য ও কাস্টমস সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে সহায়তাকারী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর অপারেটরদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

মার্কিন কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রকল্পে অংশগ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক বন্দরগুলোর সঙ্গে লগইঙ্কের সহযোগিতার মাত্রা দ্বিগুণ হওয়ার কথা ছিল।

এর কয়েক মাস পর, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি দল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে লগইঙ্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। এই দলের মধ্যে ছিলেন মার্কো রুবিও, যিনি বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তারা বলেন, লগইঙ্কের অবাধ সম্প্রসারণ চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে ‘বিশ্ব বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার’ সুযোগ করে দিতে পারে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের শেষের দিকে ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেমস অ্যাসোসিয়েশনকে (আইপিসিএসএ) লগইঙ্কের সঙ্গে অবিলম্বে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান মার্কিন আইনপ্রণেতা মিশেল স্টিল। এই অ্যাসোসিয়েশনই তথ্য-আদান-প্রদানের ওই প্রকল্পটির মূল উদ্যোক্তা ছিল। 

সেই সময়েই কংগ্রেস এমন একটি আইন পাস করে, যা পেন্টাগনকে লগইঙ্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের চুক্তি করা থেকে বিরত রাখে। এ ছাড়া এই আইনে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা মিত্র 

ও সহযোগী দেশগুলোকে এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা থেকে নিরুৎসাহিত করেন।

তবে সিউল ও টোকিওতে লগইঙ্কের সঙ্গে কাজ করা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তথ্য আদান-প্রদানের পরিধি ওয়াশিংটনের কোনো কোনো মহলের আশঙ্কার তুলনায় অনেক কম ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র ও মৎস্য সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে কেবল জাহাজের আসা-যাওয়ার সময় এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর তথ্যই আদান-প্রদান করা হতো; জাহাজে কী ধরনের পণ্য রয়েছে, সে সংক্রান্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হতো না।


কেন অচল হয়ে পড়ল?

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির মতে, সদস্যপদ বাবদ ফি দেওয়া বন্ধ করার পর ২০২৪ সালে আইপিসিএসএতে প্ল্যাটফর্মটির অংশগ্রহণ শেষ হয়ে যায়।

সেই সময়ের কাছাকাছি সময়েই লগইঙ্কের ওয়েবসাইটটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ‘ওয়েব্যাক মেশিন’ আর্কাইভে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য ২০২৪ সালের জুন মাসের।

আইপিসিএসএর জেনারেল ম্যানেজার ইনগা মর্টন নিশ্চিত করেছেন, লগইঙ্ক আর তাদের সদস্য নয় এবং আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদান বিষয়ক প্রকল্পটি এখন ‘স্থগিত ও নিষ্ক্রিয়’ অবস্থায় রয়েছে।

এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে চীনের যে পরিষেবাটি লগইঙ্কের প্রধান আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছিল, তা-ও হোঁচট খেয়েছে। পরিষেবাটি চালুর পর থেকে তিনটি দেশের অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত বৈঠক করে আসছিলেন; কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির’ কারণ দেখিয়ে চীন হঠাৎ করেই ২০২৪ সালের মার্চ মাসে নির্ধারিত একটি অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়। এরপর থেকে আর কোনো বৈঠক হয়নি।

পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ওই পরিষেবার মাধ্যমে লগইঙ্কের তথ্যে টোকিওর প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়। ওই কর্মকর্তা আগস্ট মাসে রয়টার্সকে বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় আগেই জাপান এই প্রবেশাধিকার হারিয়েছিল এবং যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

ইউরোপে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রচেষ্টাতেও চীনা উদ্যোগটি খুব একটা সফল হয়নি।

পর্তুগালের বৃহত্তম বন্দর ‘সিনেস’ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আনা রিতা রোসা রয়টার্সকে জানান, তথ্য আদান-প্রদানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে লগইঙ্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি  কোনো উল্লেখযোগ্য ফলাফল বয়ে আনেনি।

অন্যদিকে, ইউরোপের বৃহত্তম বন্দর রটারডামের ডিজিটাল ব্যবস্থা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘পোর্টবেস’  জানিয়েছে, লগইঙ্কের সঙ্গে ২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি প্রাথমিক আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে আর এগোয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান, ২০২২ সালের শুরুর দিকে এই সম্পর্ক নিয়ে ডাচ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলায় চীনা প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পোর্টবেস।

লগইঙ্কের সঙ্গে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের কোনো প্রভাব ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোসা ও পোর্টবেস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে চীনে লগইঙ্ককে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। করপোরেট তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘কিচাচার’ নথিপত্র অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্মের ওয়েনঝৌ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ৩৯টি আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। এসবের আর্থিক মূল্য প্রায় ১৩ লাখ মার্কিন ডলার। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল শ্রম-সংক্রান্ত বিরোধ, আবার অন্যগুলো বকেয়া ইউটিলিটি বিল সংক্রান্ত।

দাবিদারদের মধ্যে রয়েছে ‘চায়না মোবাইলের’ একটি স্থানীয় অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যারা ‘সেবা প্রদান সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে বিরোধের’ জেরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে লগইঙ্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। আদালত পরে লগইঙ্ককে ওই টেলিযোগাযোগ কোম্পানিকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিলেও, সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা নথিপত্রে উল্লেখ নেই।

লগইঙ্ক উচ্ছেদের হুমকির মুখেও পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। নথিপত্র অনুযায়ী, মে মাসে একজন বিচারক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘সম্পত্তি ইজারা সংক্রান্ত বিরোধ’ বিষয়ক একটি মামলার শুনানি করেন। লগইঙ্কের কার্যালয় যে শিল্পপার্কে অবস্থিত, সেই পার্কের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মামলাটি করেছিল।

চায়না মোবাইল এবং সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

রয়টার্সের প্রতিনিধি যখন শহরের উপকণ্ঠে নদীর তীরে অবস্থিত ওয়েনঝৌর ওই ভবনটিতে যান, তখন সেখানে কোনো কর্মচাঞ্চল্য বা কার্যক্রমের চিহ্ন দেখা যায়নি।

তবে ধুলোমাখা ডেস্ক ও চেয়ারের পাশে থাকা দেয়ালে বড় করে লেখা ছিল কমিউনিস্ট পার্টির একটি স্লোগান, যেখানে ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে কাজে লাগানোর’ বিষয়ে চীনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

চীনের সেই ‘বাণিজ্যিক অস্ত্র’ এখন অচল

চীনের সেই ‘বাণিজ্যিক অস্ত্র’ এখন অচল

ইরান হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে: রুবিও

ইরান হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে: রুবিও

কিশোরদের সুরক্ষায় ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকে কঠোর বিধিনিষেধ চায় ফ্লোরিডা

কিশোরদের সুরক্ষায় ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকে কঠোর বিধিনিষেধ চায় ফ্লোরিডা

কাশ্মীর সংঘাত নিয়ে সিনেমা বানানো নির্মাতাকে আটক করল যুক্তরাষ্ট্র

কাশ্মীর সংঘাত নিয়ে সিনেমা বানানো নির্মাতাকে আটক করল যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

মিসর-কুয়েত-আমিরাতকে ২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মিসর-কুয়েত-আমিরাতকে ২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ-নেপালের মতো অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

বাংলাদেশ-নেপালের মতো অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ দিল্লিতে

সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ দিল্লিতে

আন্দোলন উত্তাল ভারত, চাপের মুখে মোদি সরকার?

আন্দোলন উত্তাল ভারত, চাপের মুখে মোদি সরকার?

রোহিঙ্গাদের পর কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান

রোহিঙ্গাদের পর কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম