বিশ্বসেরার মুকুট হারাল লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একসময় সিল্ক রোডের বাণিজ্যপথ আর ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল ইস্তাম্বুল। রেলযুগে বিখ্যাত ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের যাত্রাপথও এসে থামত এই শহরে। এবার আকাশপথেও সেই সংযোগের নতুন রেকর্ড গড়ল ইস্তাম্বুল। বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দর হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর। এ ক্ষেত্রে পেছনে পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ওএজি প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘মেগাহাবস’ সূচকে ইস্তাম্বুল প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিমানবন্দরটি এবারই প্রথমবারের মতো তালিকার শীর্ষে উঠল।
৩৩৭ গন্তব্যে সংযোগ
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে বিশ্বের ৩৩৭টি গন্তব্যে সংযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরটির ৮০ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনা করে তুর্কিশ এয়ারলাইনস। ফলে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে ইস্তাম্বুলের সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ওএজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টি বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের তথ্য ব্যবহার করে এই র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। কোনো বিমানবন্দরে আগত ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সম্ভাব্য সংযোগ এবং বিমানবন্দরটি কতটি গন্তব্যে সেবা দেয়- এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়। এবারের সূচকে ব্যস্ততম দিনের ছয় ঘণ্টার সংযোগ-সম্ভাবনাও হিসাব করা হয়েছে।
কেন এগিয়ে গেল ইস্তাম্বুল?
ইস্তাম্বুলের ভৌগোলিক অবস্থানই এর সবচেয়ে বড় শক্তি। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে থাকা শহরটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের বিশাল অবকাঠামো। ওএজির প্রধান বিশ্লেষক জন গ্রান্টের মতে, তুর্কিশ এয়ারলাইনসের নেটওয়ার্ক এবং ইস্তাম্বুলের ভৌগোলিক অবস্থান- দুটিই বিমানবন্দরটির শীর্ষে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরকে ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এর রানওয়ে ও টার্মিনাল অবকাঠামোও বড় পরিসরের আন্তর্জাতিক সংযোগ সামলাতে সক্ষম।
দ্বিতীয়, তৃতীয়
গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরের তালিকায় শীর্ষে ছিল লন্ডন হিথ্রো। এবার সেটি নেমে গেছে দ্বিতীয় অবস্থানে। হিথ্রোর সম্ভাব্য সংযোগ গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে ওই অঞ্চলের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল কমে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ। আগস্টে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে হিথ্রোর উড়োজাহাজ আসন সক্ষমতা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম ছিল।
তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শিফল বিমানবন্দর। চতুর্থ অবস্থানে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি এশিয়ার সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরও। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও’হেয়ার বিমানবন্দর উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে। ২০২৫ সালে সপ্তম অবস্থানে থাকা বিমানবন্দরটি এবার সম্ভাব্য সংযোগ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় আরও ওপরে উঠেছে।
এশিয়ার দাপট
বিশ্বের শীর্ষ ২০টি সংযুক্ত বিমানবন্দরের তালিকায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আধিপত্যও চোখে পড়ার মতো। এই অঞ্চলের আটটি বিমানবন্দর জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ ২০-এ। চীনের বিমানবন্দরগুলোও এবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। সাংহাই পুডং ১৯তম থেকে উঠে ১৪তম, গুয়াংজুর বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৩৬তম থেকে ১৯তম এবং হংকং বিমানবন্দর ২২তম থেকে উঠে ২০তম অবস্থানে এসেছে।
তবে কম খরচের এয়ারলাইন বা লো-কস্ট ক্যারিয়ারের সংযোগের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কুয়ালালামপুর। সেখানে প্রায় ১৫ হাজার সম্ভাব্য লো-কস্ট সংযোগ রয়েছে।


