শীর্ষ নেতারা আটক, দিল্লিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন কে?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
শীর্ষনেতাদের আটকের খবরের মধ্যেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সিজেপি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষনেতাদের আটকের খবরের মধ্যেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সংগঠনটি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে যন্তর মন্তরে আজ সিজেপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভের আগে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে ঢুকে অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করেছে পুলিশ। তাকে একটি পুলিশ বাসে রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে রেখেছেন।
এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের (কালিঘাট) সভানেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দিল্লিতে আটক করেছে পুলিশ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধর্নায় বসার পর মমতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে মমতা আটক হয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আটক হওয়া সাংসদের মধ্যে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখলে।
পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে দিল্লিতে আটক করা হয়েছে।
দিল্লিতে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ধ্রুব রাঠি। বিক্ষোভ শুরুর আগেই তাকে আটক করে পুলিশ।
এত ধরপাকড়ের পর প্রশ্ন উঠেছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে কে তাহলে, এই প্রশ্নের উত্তর আগেই রেখে গেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
আটক হওয়ার আগে ধারন করে রাখা একটি ভিডিওতে বলেছেন, তিনি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক হলে অজিঙ্কা শিন্ডে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।
গ্রেফতারের আশঙ্কায় আগের রাতে ভিডিও বার্তাটি ধারণ করেছিলেন দিপকে। আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে সিজেপি।
শুক্রবার রাতে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, ‘আপনি যদি এই ভিডিওটি দেখে থাকেন, তাহলে বুঝবেন, আমাদের ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ পরে সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) ভিডিওটি প্রকাশ করে।
দিপকে ও সিজেপির আরও দুই নেতাকে আটকের দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা বিবিসির সাংবাদিক গীতা পান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা মানবপ্রাচীর তৈরি করেছেন, আকাশে ড্রোন উড়ছে এবং বিক্ষোভস্থলের আশপাশে বড় ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেখানে যেতে চাওয়া অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সরকারের জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনটির এবারের কর্মসূচিতে নির্বাচনি সংস্কার এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও জানানো হচ্ছে। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সিজেপি, যদিও ভারতের নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


