Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

মোদি সরকারের কট্টর সমালোচক কে এই ধ্রুব রাঠি

Advertisement

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ এএম

মোদি সরকারের কট্টর সমালোচক কে এই ধ্রুব রাঠি

নরেন্দ্র মোদি ও ধ্রুব রাঠি। ফাইল ছবি

Advertisement

জার্মানিতে বসবাসকারী জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ভারতের মোদি সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দিতে তিনি দিল্লিতে এসেছিলেন।

তবে অন্য অনেকের মতো তাকেও আটক করে পুলিশ। গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-তে তার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। অধিকাংশকে শনিবার রাতে ছেড়ে দেওয়া হলেও ধ্রুব রাঠিকে আটক রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাকেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।  ফের সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে গেলে তার বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। 

এর আগে ধ্রুবকে আটকের নিন্দা করে সামাজিকমাধ্যমে সরব হয় সিজেপি। সংগঠনটি জানায়, ধ্রুব রাঠি আটক। একনায়ক সেই সব তরুণ-তরুণীকে দেখে আতঙ্কিত, যারা তার অপকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং চুপ করে বসে থাকতে চাইছেন না।’ 

কে এই ধ্রুব রাঠি? 

ইউটিউবে বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন ধ্রুব রাঠি। বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি রাজনীতি নিয়েও নানা মন্তব্য করেন তিনি।পদ্মশিবিরের বিরোধী হিসাবেই পরিচিত এই তরুণ।

ধ্রুব একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও ভিডিও নির্মাতা। তার কন্টেন্টগুলো মূলত ভারতীয় রাজনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি, পরিবেশ এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি তার ভিডিওগুলি প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

১৯৯৪ সালের ৮ অক্টোবর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম ধ্রুবের। তিনি হরিয়ানায় তার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ওপর উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন তিনি। এখন সেখানেই চাকরি করেন। সেই সঙ্গেই ইউটিউবে ভিডিও বানান তিনি। ধ্রুব জার্মানির কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনা করেছেন।

মোদি সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ধ্রুব। ধ্রুব তার নানা ভিডিওতে মূলত মোদি এবং তার সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই সব ভিডিও পুরো ভারতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ধ্রুব মূলত তার রাজনৈতিক ভিডিওগুলির জন্য পরিচিত, যেগুলোতে প্রধানত তথ্য যাচাই এবং বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যামূলক বিশ্লেষণ থাকে। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউটিউবকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা প্রথম ভারতীয় ইউটিউবারদের মধ্যে ধ্রুব অন্যতম।

স্ত্রীর সঙ্গে ধ্রুব রাঠি

২০১৩ সালে ভ্রমণের ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে ইউটিউবের যাত্রা শুরু করেন ধ্রুব। তবে সে বছরেরই শেষের দিকে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিষয়বস্তুর দিকে মনোযোগ দেন তিনি। গুরুগম্ভীর বিষয়বস্তুর পাশাপাশি, ‘পি নিউজ’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক বা ‘ফেক নিউজ়’ বিষয়ক বিভাগ চালু করেন। এ ছাড়া ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত তিনি ‘দ্য প্রিন্ট’-এর জন্য কলাম লিখতেন।

২০২০ সালের জুলাই মাসে ‘ধ্রুব রাঠী ভ্লগস’ নামে আরেকটি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেন তিনি। সেখানে তিনি তার আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ভ্লগগুলো শেয়ার করেন। ভ্লগের পাশাপাশি, ধ্রুব বিভিন্ন অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে ডয়চে ভেলের ‘ডব্লিউ ট্রাভেল’ এবং নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ার ‘ডিকোড উইথ ধ্রুব’। এ ছাড়াও তিনি গান এবং পডকাস্ট শোনার প্ল্যাটফর্ম ‘স্পটিফাই’য়ে ‘মহাভারত উইথ ধ্রুব রাঠি’ নামে একটি পডকাস্টও পরিচালনা করেন।

২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল ধ্রুব পাঁচটি নতুন ইউটিউব চ্যানেল চালু করার ঘোষণা করেন। এগুলোতে ভারতের পাঁচটি আঞ্চলিক ভাষায় তামিল, তেলেগু, বাংলা, মরাঠি এবং কন্নড় ডাব করা ভিডিও প্রকাশ করার পরিকল্পনা করা হয়।

২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো তার ভিডিও প্রচার করে।কারণ ওই ভিডিয়োগুলোতে তিনি ভারত সরকারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যর্থতার সমালোচনা করেছিলেন। 

ইউটিউবার ধ্রুব আলোড়ন তুলেছিলেন ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে। লোকসভা ভোটের মাস তিনেক আগে তার একটি ভিডিওর বিষয় ছিল, ‘ভারত কি একনায়কতন্ত্রে পরিণত হচ্ছে?’ আধঘণ্টার ভিডিওতে চণ্ডীগড় মেয়র নির্বাচন, কৃষক আন্দোলনের মতো নানা বিষয়ের প্রসঙ্গ তুলে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রশ্ন তোলেন ধ্রুব। ভোট শেষ হওয়ার মুখে সেই ভিডিওর ভিউ ছাড়ায় আড়াই কোটি।

অনেকে মনে করেন, ধ্রুবের ভিডিওর এমন প্রভাবের অন্যতম কারণ হলো- তার বার্তা একেবারে সরাসরি, সহজ এবং স্পষ্ট। তবে ধ্রুবর নানা বক্তব্যকে বিরোধী শিবির ব্যবহার করলেও ধ্রুবের দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি তার আনুগত্য নেই। তিনি চান সত্যি কথা বলতে এবং যুক্তি, স্বাধীনতা, প্রগতি ও সবাইকে নিয়ে চলাকে গুরুত্ব দিতে।

কাজ করতে গিয়ে সরকারের রোষের মুখেও পড়তে হয়েছে ধ্রুবকে। সরকার সমর্থকদের থেকে পেয়েছেন ‘দেশবিরোধী’ তকমাও। ২০১৮ সালে বিজেপির আইটি সেল নিয়ে একটি ভিডিওর জেরে তার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ হয়। তারপরও দমে যাননি তিনি বরং উত্তরোত্তর বেড়েছে তার জনপ্রিয়তা।

সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে ধ্রুবের ডিজিটাল অনুরাগীর সংখ্যা বিশাল। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৯২ লাখ এবং ইউটিউবে ৩ কোটি ৩০ লাখ অনুরাগী বা ফলোয়ার রয়েছে তার। ২০২১ সালের নভেম্বরে ভিয়েনার বেলভেডিয়ার প্রাসাদে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জুলি এলবিআর-কে বিয়ে করেন ধ্রুব। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম নেয়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আনন্দবাজার

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ধ্রুবকে ছাড়লেও হেফাজতে সিজেপির শীর্ষ তিন নেতা

ধ্রুবকে ছাড়লেও হেফাজতে সিজেপির শীর্ষ তিন নেতা

সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো ধ্রুব রাঠিকে

সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো ধ্রুব রাঠিকে

দিল্লিতে আন্দোলনে নতুন নেতৃত্বে আসা কে এই অজিঙ্ক শিন্ডে

দিল্লিতে আন্দোলনে নতুন নেতৃত্বে আসা কে এই অজিঙ্ক শিন্ডে

১০ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ  ককরোচ পার্টির শীর্ষ নেতারা

১০ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ ককরোচ পার্টির শীর্ষ নেতারা

‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’

কে সি বেণুগোপাল ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’

রাহুলের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ, মোদির সঙ্গে মেট্রোযাত্রা: দুই মেরুর রাজনীতির মাঝে বিজয়

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন রাহুলের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ, মোদির সঙ্গে মেট্রোযাত্রা: দুই মেরুর রাজনীতির মাঝে বিজয়

আরও পড়ুন

ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

মোদি সরকারের কট্টর সমালোচক কে এই ধ্রুব রাঠি

মোদি সরকারের কট্টর সমালোচক কে এই ধ্রুব রাঠি

মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকেসহ সিজেপির তিন নেতা

মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকেসহ সিজেপির তিন নেতা

৪৭ ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ইসরাইলি বাহিনীর

৪৭ ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ইসরাইলি বাহিনীর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম