প্রেমিকার ফোন নম্বর চাওয়ায় উবার চালককে গুলি যুবকের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রেমিকার ফোন নম্বর চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক উবার ইটস ডেলিভারি চালককে গুলি করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলার পর তার ফোন নম্বর চাইতে ফিরে এসেছিলেন ওই চালক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গুলি করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। গুলিতে চালকের নিতম্বে আঘাত লাগে। খবর এনডিটিভির
অভিযুক্তের নাম খুসলেন সারুলতুয়া (৩৩)। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুরুতর হামলা এবং মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির টার্নার গিলফোর্ড নাইট সংশোধনাগারে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে মিয়ামি-ডেডের পার্ল ডেডল্যান্ড অ্যাপার্টমেন্টে গুলির শব্দ শুনে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশকে জানান, কয়েকজনের মধ্যে ঝগড়া হওয়ার পর তারা সেখান থেকে চলে গেছেন। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তি ব্যাপটিস্ট হেলথ সাউথ মিয়ামি হাসপাতালে পৌঁছান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ডেলিভারি চালক পুলিশকে জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে তিনি অ্যাপার্টমেন্টের এক নারীর কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন। সে সময় তাদের মধ্যে অল্প কথা হয়। নারীটিকে তার ভালো লাগায় আবার দেখা করা এবং ফোন নম্বর নেওয়ার আশায় রাত ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি সেখানে ফিরে যান।
কিন্তু ওই নারী ফোন নম্বর দিতে রাজি হননি। এরপর চালক নিজের গাড়ির দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি শেভ্রোলেট করভেট গাড়ি নিয়ে সেখানে হাজির হন সারুলতুয়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বন্দুক তাক করে চালককে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলেন। এরপর গুলি ছুড়লে চালকের ডান নিতম্বে আঘাত লাগে। পরে বন্দুক দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন অভিযুক্ত। এতে মাথায় প্রায় দুই ইঞ্চি লম্বা ক্ষত তৈরি হয়।
এরপর চালককে উঠে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তার মাথায় বন্দুক তাক করেন সারুলতুয়া। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে মেরে ফেলব।’
অভিযুক্তের প্রেমিকা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং চিৎকার করে গুলি না চালাতে বলেন। কিন্তু অভিযোগ, সারুলতুয়া চালককে লক্ষ্য করে গাড়ির চারপাশে ধাওয়া করতে থাকেন।
পুলিশ গাড়ির নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে সারুলতুয়াকে শনাক্ত করে। পরে ছবির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী চালক। এরপর অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কেটামিন, কোকেন, এমডিএমএ, সাইলোসাইবিন মাশরুম, গাঁজা, অ্যাডেরল, অক্সিকোডোন, অ্যামফেটামিন, জ্যানাক্স, ১৬টি সিয়ালিস বড়ি এবং ‘পিংক কোকেন’ নামে পরিচিত মাদকের দুটি প্যাকেট।
আদালতে হাজির করা হলে সারুলতুয়া দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলো তার প্রেসক্রিপশনের ওষুধ।
এদিকে, এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুতর এবং তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।


