যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ না করার প্রতিশ্রুতি সিজেপির ২ নেতার
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ এএম
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রানকা ও সৌরভ দাস। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাত দিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর বুধবার (২১ অক্টোবর) মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রানকা ও সৌরভ দাস। মুক্তির আগে নয়াদিল্লির এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালতে তারা অঙ্গীকার করেছেন, আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তরকে আবার বিক্ষোভস্থল হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো বিক্ষোভের ডাক দেবেন না। খবর এনডিটিভির
আদালতের নথি অনুযায়ী, দুই নেতা অঙ্গীকার করে বলেন, তারা শান্তি ভঙ্গ করবেন না। বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান তারা।
অঙ্গীকারনামায় আরও বলা হয়, তারা শান্তি, আইনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের সীমার মধ্যেই করা হবে।
মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার সময় আদালত দুই নেতাকে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারির বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। আগামী শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
গত ১৪ অক্টোবর থেকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন দাস ও রানকা। এর আগের দিন, ১৩ অক্টোবর, যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে সেখানে প্রবেশ করেন তারা এবং জাতীয় পতাকা ওড়ান। যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এর আগে, ১০ অক্টোবর নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পর তাদের আটক করা হয়েছিল। সে সময় শান্তি বজায় রাখার জন্য তারা একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করেছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, ১৩ অক্টোবরের কর্মসূচির মাধ্যমে সেই মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছেন তারা।
১৪ অক্টোবর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে সোমবার আরও দুই দিন হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। দিল্লি পুলিশ তাদের আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল।
আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সৌরভ দাস বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে।’
এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, দুই নেতাকে আটক রাখার উদ্দেশ্যে মামলার শুনানি ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টেও আবেদন জানিয়েছিল দলটি।
এদিকে, আদালতে শুনানির সময় বিচারপতিরা দুই নেতার বয়স জানতে চান। তাদের বয়স ২৭ ও ৩১ বছর জানানো হলে আদালত মন্তব্য করেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের নন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই প্রজন্মের তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার প্রসঙ্গেই আদালতের এই মন্তব্য আসে। জুন-জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনের ফলে শিক্ষামন্ত্রীর পরিবর্তন হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।


