Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

আসামে ১১ শতাধিক বাংলাভাষী মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

আসামে ১১ শতাধিক বাংলাভাষী মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদ

Advertisement

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারের বেশি পরিবার। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম। এছাড়া অভিযানে একাধিক মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়। 

আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গত রোববার ৬০০ টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর আগের দিন, আসামের তিন জেলায় আরও ৫ শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। অর্থাৎ মোট ১ হাজার ১০০ টিরও বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত দাবি করেছেন, রাজ্যের উন্নয়নের ‘রুদ্র রূপ’ প্রদর্শন করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে সংখ্যালঘু সংগঠন। কারণ, যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।

গত শনি ও রোববার নগাঁও, হোজাই এবং গোলাঘাট জেলায় মূল অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ। এর মধ্যে রোববার নগাঁও জেলার লুতুমাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে এক দিনেই প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়। এতে প্রায় ৫৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

লুতুমারি এলাকার পরিবারগুলো কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে বসবাস করে আসছিল। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, তারা অবৈধভাবে জমি দখল করে বসবাস করছিলেন না; বরং সরকারই তাদের সেখানে পুনর্বাসিত করেছিল।

 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অভিযানে ১ হাজার ১০০-এর বেশি পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা ছাড়াও বেশ কয়েকটি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকেও এই অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন উচ্ছেদের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে দাবি করেছে, গত রোববারের অভিযানে সহস্রাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি একাধিক মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। 

সংগঠনের সভাপতি জানিয়েছেন, লুতুমাই বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশকে ১৯৭৩ সালে সরকার সাময়িকভাবে সেখানে পুনর্বাসিত করেছিল।

ওই সংগঠনের দাবি, আদালত নির্দেশ দিলেও উচ্ছেদপ্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশানা করা হচ্ছে। অথচ অন্য ধর্মাবলম্বী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এখনো নোটিশ দেওয়ার কাজ শুরু হয়নি।

গত জুনে অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপলস আসাম সরকারকে লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গ্রামবাসীদের পরিকল্পিত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। 

সংগঠনটির যুক্তি ছিল, ওই এলাকার চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে চালু হওয়া ‘টংগিয়া’ বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় সেখানে বসতি গড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাঁদের সাধারণ বনভূমি দখলকারী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

টংগিয়া পদ্ধতিতে বনাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী বন বিভাগের অধীনে কাজ করার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান গাছের সঙ্গে খাদ্যশস্যও চাষ করত। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশরা এই পদ্ধতি চালু করে। পরে আসামের কিছু এলাকাতেও এটি ব্যবহার করা হয়।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না কংগ্রেস, রাহুলকে অমিত শাহ

৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না কংগ্রেস, রাহুলকে অমিত শাহ

অপহরণের পর যুবককে দিয়ে ঋণ আবেদন, এরপর ছিনতাই

অপহরণের পর যুবককে দিয়ে ঋণ আবেদন, এরপর ছিনতাই

‘নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা বদলের পাঠ নিতে বিদেশে যান রাহুল’

‘নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা বদলের পাঠ নিতে বিদেশে যান রাহুল’

ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভের ডাক

ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভের ডাক

মুক্তির পরই সিজেপি নেতাদের তলব করল পুলিশ

মুক্তির পরই সিজেপি নেতাদের তলব করল পুলিশ

‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

আরও পড়ুন

টাইগার শ্রফের ওপর হামলাকারীদের নিয়ে বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য

টাইগার শ্রফের ওপর হামলাকারীদের নিয়ে বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য

ক্ষুধা মোকাবিলায় ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ক্ষুধা মোকাবিলায় ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

সৌদি আরবে পৃথক হামলায় একদিনে নিহত ৪

সৌদি আরবে পৃথক হামলায় একদিনে নিহত ৪

দুই কোরিয়ার সীমান্তে ফের উত্তেজনা, দক্ষিণকে কিমের বোনের হুঁশিয়ারি

দুই কোরিয়ার সীমান্তে ফের উত্তেজনা, দক্ষিণকে কিমের বোনের হুঁশিয়ারি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম