মিশিগানে সেই মুসলিম প্রার্থী জিতলে ‘ক্রিসমাস থাকবে না’, বললেন ট্রাম্প
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ এএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে নিয়ে মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণ আরও তীব্র করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এমন কথাও বলেছেন, এই প্রগতিশীল চিকিৎসক জিতলে ক্রিসমাস বাতিল হয়ে যাবে।
রোববার ট্রাম্প মিশিগানের পোর্ট হুরন শহরে যান। ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই এই সফর। প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তৃতায় তিনি কয়েকশ সমর্থকের সামনে কথা বলেন। বক্তৃতার বড় অংশ ছিল মিশিগানের সিনেট নির্বাচন নিয়ে। আল জাজিরার ভাষ্য, ট্রাম্প এল-সাইদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। এর মধ্যে তাকে ‘জিহাদি’ বলাও আছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘সিনেটে ঢোকার আগে মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে, এমন একমাত্র সিনেটর হবেন তিনি। আমি চাই তার জন্য মেটাল ডিটেক্টর থাকুক।’
এই নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মিশিগানের আসনটি ফাঁকা হচ্ছে। সেখানে এল-সাইদের প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান মাইক রজার্স। সিনেটে মোট আসন ১০০টি। রিপাবলিকানদের এখন ৫৩ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। এ বছর ভোট হবে মাত্র ৩৫ আসনে। অবসরে যাওয়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি রজার্স জিতলে ডেমোক্রেটদের কাজ কঠিন হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তাদের আরও পাঁচটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে।
আল জাজিরা জানাচ্ছে, কিছুদিন ধরেই ট্রাম্প এল-সাইদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করছেন। এর আগে তিনি এল-সাইদের নাম ভুলভাবে ‘মোহাম্মদ’ বলেও উল্লেখ করেছেন। রোববার তিনি এই আক্রমণ নতুন মাত্রায় নিয়ে যান।
বক্তৃতায় ট্রাম্প মিথ্যা অভিযোগ করেন, এল-সাইদ যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন চালু করতে চান। তিনি বলেন, ‘তাই আবদুল... চায় আমাদের দেশ শরিয়া আইনের দিকে যাক। সে যদি কখনো তা করতে পারে, তাহলে তার বিচার সবার আগে হওয়া উচিত। আমি সাক্ষী হব।’
সমাবেশে এল-সাইদের নাম এলেই কিছু উপস্থিত ব্যক্তি চিৎকার করে বলছিলেন ‘বিশ্বাসঘাতক’। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি এসেছি এক জিহাদি মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়া ঠেকাতে।’
এল-সাইদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। তিনি সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। তিনি কখনো মুসলিম ব্রাদারহুড বা অন্য কোনো বিদেশি সংগঠনের সদস্য ছিলেন, এমন প্রমাণ নেই।
২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় থেকেই ট্রাম্প মুসলিমবিদ্বেষকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছেন। ২০১৫ সালে, প্রথম নির্বাচনী প্রচারের শুরুর দিকে, তিনি বলেছিলেন যে তিনি ‘মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার’ পক্ষে। দুই বছরেরও কম সময় পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি একটি নির্বাহী আদেশ সই করেন। এতে কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। এটি ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। সেই আদেশ বেশি দিন টেকেনি।
রোববার তিনি আবার মুসলিম অভিবাসনের ভয়কে কাজে লাগান। তিনি বলেন, ‘আবদুল আর ডেমোক্রেটরা জিতলে তারা বন্যার বাঁধ খুলে দেবে। আমাদের তীরে ডেকে আনবে জিহাদিদের দল। সহিংসতা আর সন্ত্রাসের এমন দুঃস্বপ্ন তৈরি হবে যে ক্রিসমাসটাও আপনারা করতে পারবেন না।’
এল-সাইদ আগে বেশির ভাগ সময় এই আক্রমণকে ‘মনোযোগ ঘোরানোর’ চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার নজর দেশের ভেতরের বিষয়ে। যেমন জীবনযাত্রার খরচ কমানো ও স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো।
