নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, ফল চ্যালেঞ্জ করবে নেতানিয়াহুর দল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০১ এএম
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। আরব রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোটারদের উপস্থিতি নজরদারিতে নিষিদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দলটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিকুদ পার্টির আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতির কারণে নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এরপর থেকেই নেতানিয়াহু ও বিদায়ী জোট সরকারের অন্য নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, আরব দলগুলো নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করেছে।
তাদের অভিযোগ, ভোটারদের ঘুষ দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া হয়েছে।
লিকুদ পার্টির আইনজীবী ইলান বোমবাখ দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা লিকুদের পর্যবেক্ষকরা প্রায় ৭০০টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এসব অভিযোগে বলা হয়েছে, আরব দলগুলোর কর্মীরা স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তার দাবি, প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে শত শত থেকে হাজার হাজার ভোটের বিষয় জড়িত।
বোমবাখের অভিযোগ, নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে দেশটির হাইকোর্ট এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। কিন্তু আরব দলগুলো সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রযুক্তি ব্যবহার করায় তারা অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে।
তবে নির্বাচনের পুরো ফল চ্যালেঞ্জ করা হবে, নাকি শুধু নির্দিষ্ট কিছু আসন বা ফলাফল নিয়ে আপিল করা হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জেরুজালেম জেলা আদালতে এ আপিল করা হবে। তবে ১৭ নভেম্বরের আগে তা দাখিল হওয়ার সম্ভাবনা কম। নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার জন্য ওই দিনই শেষ সময়।
এদিকে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক পাঠানো সংগঠন ‘সিভিলিয়ান ইলেকশন গার্ড’ জানিয়েছে, ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে অ্যাপ ব্যবহারের ৩৭৪টি সম্ভাব্য অনিয়ম তারা শনাক্ত করেছে।
তবে সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের অনিয়মে সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিল লিকুদ পার্টির কর্মী ও ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। মোট ঘটনার ৩২ শতাংশের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
এ তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমি ১০ শতাংশ, শাস পার্টি ৬ শতাংশ, রা'আম ২ শতাংশ এবং জয়েন্ট লিস্ট ১ শতাংশ।
নির্বাচনের ১০ দিন আগে হাইকোর্ট এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলে লিকুদ পার্টির মন্ত্রীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
বিশেষ করে লিকুদ ও কট্টর অর্থোডক্স দলগুলো গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করেছে। দলগুলোর দাবি ছিল, এ পদ্ধতি বন্ধ করা হলে নির্বাচনের দিন তাদের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
তবে এবার নির্বাচনের ফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে নেতানিয়াহুর দল। আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


-6aef286910ec6.jpg)