Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

ধর্ষণ ও ব্যভিচারের মধ্যে পার্থক্য, ইসলামে এই দুটির শাস্তি কী?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:২৪ পিএম

ধর্ষণ ও ব্যভিচারের মধ্যে পার্থক্য, ইসলামে এই দুটির শাস্তি কী?

ধর্ষণের শাস্তি। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বিবাহ সম্পর্ক ছাড়া পরস্পর যৌনমিলনই ব্যভিচার। এ ক্ষেত্রে পরস্পর সম্মতি থাকলেই কেবল ব্যভিচার হবে। যদি কোনো এক পক্ষের সম্মতি না থাকে তাহলে তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে। বহুল আলোচিত অপরাধ ব্যভিচারের শাস্তি ইসলামে সুনির্ধারিত। তা হল— অপরাধী অবিবাহিত হলে তাকে একশ দোররা ও বিবাহিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে এটি ব্যভিচারের শাস্তি; যা পুরুষ-নারী উভয়কেই দেওয়া হবে। কিন্তু যদি ব্যভিচার হয় বলপ্রয়োগপূর্বক তাহলে সেক্ষেত্রে বলপ্রয়োগকারী শাস্তি পাবে, যার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তিনি নন।

ধর্ষণের আরবি প্রতিশব্দ ‘ইগতিসাব’। অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া। পরিভাষায় ধর্ষণ বলা হয়, অনিচ্ছায়, জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যৌন চাহিদা পূরণ করা। ইসলামী আইনে ধর্ষণ একটি বহু মাত্রিক অপরাধ। যার মধ্যে কমপক্ষে তিনটি অপরাধ সংঘটিত হয়। তাহলো- ক. ব্যভিচার, খ. বল প্রয়োগ ও ভীতি প্রদর্শন, গ. সম্ভ্রম লুণ্ঠন।

প্রতিটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক এক হুমকি ধর্ষণ। জঘন্য এই অপরাধ দমন করা না গেলে সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়, বিশেষত নারীর জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। ইসলামী আইনে ধর্ষণের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। ইসলামী আইনে ধর্ষণের শাস্তি অপরিহার্য।

শিরক ও হত্যার পর ব্যভিচার সুস্পষ্ট হারাম ও বড় ধরনের অপরাধ। কুরআনে বলা হয়েছে-

وَ لَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّهٗ كَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَ سَآءَ سَبِیۡلًا

‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ৩২)

প্রখ্যাত তাফসিরবিদ ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘উলামায়ে কেরাম বলেছেন, ব্যভিচার করো না’-এর চেয়ে ‘ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না’ এটি অনেক বেশি কঠোর বাক্য। এর সহজ অর্থ হলো, যেসব বিষয় ব্যভিচারে উদ্বুদ্ধ করে ও ভূমিকা রাখে সেগুলোও হারাম।’

ইসলামী আইনে এই তিনটি বিষয়ই পৃথকভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর ধর্ষণে যেহেতু এই তিনটি অপরাধের সমন্বয় ঘটে, তাই ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ। ইসলামী আইনে ধর্ষকের শাস্তি কী হবে তা নির্ভর করে তার অপরাধের মাত্রা ও স্তরের ওপর। 

১. ব্যভিচারের শাস্তি: বেশির ভাগ আলেম বলেন, ধর্ষক যদি প্রাণঘাতী অস্ত্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন না করে শুধু বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যভিচারের শাস্তি ভোগ করবে। ইসলামী আইনে ব্যচিভারের শাস্তি হলো—ক. ব্যভিচারে লিপ্ত ব্যক্তি অবিবাহিত হলে একশ কশাঘাত। আল্লাহ বলেন-

اَلزَّانِیَۃُ وَ الزَّانِیۡ فَاجۡلِدُوۡا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنۡهُمَا مِائَۃَ جَلۡدَۃٍ ۪ وَّ لَا تَاۡخُذۡكُمۡ بِهِمَا رَاۡفَۃٌ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰهِ اِنۡ كُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ۚ وَ لۡیَشۡهَدۡ عَذَابَهُمَا طَآئِفَۃٌ مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে এক শ কশাঘাত করবে।  আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের প্রভাবিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও; মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সূরা নুর: আয়াত  ২)

খ. ব্যভিচারে লিপ্ত ব্যক্তি বিবাহিত হলে তার শাস্তি প্রস্তারাঘাতে মৃত্যু। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন- ‘যখন বিবাহিত নারী ও পুরুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন তাদের মৃত্যু (নিশ্চিত হওয়া) পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপ করো।’ (ইবনে মাজাহ ২৫৫৩)

২. মুহারিবের শাস্তি : ধর্ষক যদি অস্ত্রধারণ করে অথবা অন্য কোনো উপায়ে ধর্ষিতাকে জীবনের হুমকি দেয়, তবে তার ওপর মুহারিবের শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। মুহারিব হলো, যে ব্যক্তি ত্রাস সৃষ্টি করে কোনো কিছু কেড়ে নেয়। চাই ত্রাস সৃষ্টিকারী অস্ত্র ব্যবহার করুক বা না করুক। মুহারিবের শাস্তির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন-

اِنَّمَا جَزٰٓؤُا الَّذِیۡنَ یُحَارِبُوۡنَ اللّٰهَ وَ رَسُوۡلَهٗ وَ یَسۡعَوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ فَسَادًا اَنۡ یُّقَتَّلُوۡۤا اَوۡ یُصَلَّبُوۡۤا اَوۡ تُقَطَّعَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ اَرۡجُلُهُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ اَوۡ یُنۡفَوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ ؕ ذٰلِكَ لَهُمۡ خِزۡیٌ فِی الدُّنۡیَا وَ لَهُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ

‘যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের সঙ্গে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হলো- তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ (সুরা মায়েদা: আয়াত ৩৩)

৩. উঁচু স্থান থেকে ফেলে হত্যা: ধর্ষক যদি বলাৎকার করে, তখনো তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এই শাস্তি কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে তা নিয়ে ফিকহের ইমামদের মতভিন্নতা আছে। তাহলো-

ক. তাকে প্রস্তারাঘাতে হত্যা করা হবে,

খ. তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হবে,

গ. তাকে উঁচু স্থান থেকে ফেলে দেওয়া হবে এবং ওপর থেকে তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-সহ একদল সাহাবি শেষোক্ত পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (আস সিয়াসাতুশ শরইয়্যা, পৃষ্ঠা-১৩৮)

৪. মৃত্যুদণ্ড : ধর্ষক যদি কোনো শিশুকে ধর্ষণ করে এবং এতে তার মৃত্যু হয়, তবে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। একইভাবে কোনো নারীকে ধর্ষণের আগে বা পরে যদি তাকে হত্যা করা হয়, তবে হত্যাকারী ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। বেশির ভাগ ফকিহের মতে, এমন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড তরবারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন-

فَمَنِ اعۡتَدٰی عَلَیۡكُمۡ فَاعۡتَدُوۡا عَلَیۡهِ بِمِثۡلِ مَا اعۡتَدٰی عَلَیۡكُمۡ ۪ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰهَ مَعَ الۡمُتَّقِیۡنَ

‘সুতরাং যে তোমাদের উপর আক্রমণ করেছে, তোমরা তার উপর আক্রমণ কর, যেরূপ সে তোমাদের উপর আক্রমণ করেছে। আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৯৪, তাফসিরে কুরতুবি : ২/৩৫৮)

> এক হাদিসে আছে, রসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে নবীজি (সা.) মহিলাকে কোনোরূপ শাস্তি দেননি, তবে ধর্ষককে হদের শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ ২৫৯৮)

যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কোরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত রয়েছে সেগুলোকে হদ বলে। যেমন চুরি করলে হাত কেটে দেয়া, ব্যভিচারে লিপ্ত হলে ১০০ বেত্রাঘাত মারা বা পাথর মেরে হত্যা করা।

>অন্য হাদিসে আছে, গনিমতের এক পঞ্চমাংশে পাওয়া এক দাসির সঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন এক গোলাম জবরদস্তিপূর্বক ব্যভিচার (ধর্ষণ) করে। এতে তার কুমারিত্ব নষ্ট হয়ে যায়। হজরত উমর (রা.) ওই গোলামকে বেত্রাঘাত করেন এবং নির্বাসন দেন। কিন্তু দাসীকে বেত্রাঘাত করেননি।’ (বুখারি ৬৯৪৯)


Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ঘরে ঢুকেই সালাম দিলে মিলবে যেসব বকরত ও ফজিলত

ঘরে ঢুকেই সালাম দিলে মিলবে যেসব বকরত ও ফজিলত

অর্থকষ্টে পড়লে যেসব আমল করবেন

অর্থকষ্টে পড়লে যেসব আমল করবেন

মৃত্যুর পরও যেসব কারণে আমলনামায় গুনাহ জমা হতে থাকে

মৃত্যুর পরও যেসব কারণে আমলনামায় গুনাহ জমা হতে থাকে

ক্ষমা: দুর্বলতা নয়, মর্যাদা অর্জনের অনন্য শক্তি

ক্ষমা: দুর্বলতা নয়, মর্যাদা অর্জনের অনন্য শক্তি

সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা কি জায়েজ?

সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা কি জায়েজ?

ক্ষমাশীল মানুষকে কেন ভালোবাসেন মহান আল্লাহ?

ক্ষমাশীল মানুষকে কেন ভালোবাসেন মহান আল্লাহ?

আরও পড়ুন

ঘরে ঢুকেই সালাম দিলে মিলবে যেসব বকরত ও ফজিলত

ঘরে ঢুকেই সালাম দিলে মিলবে যেসব বকরত ও ফজিলত

অর্থকষ্টে পড়লে যেসব আমল করবেন

অর্থকষ্টে পড়লে যেসব আমল করবেন

মৃত্যুর পরও যেসব কারণে আমলনামায় গুনাহ জমা হতে থাকে

মৃত্যুর পরও যেসব কারণে আমলনামায় গুনাহ জমা হতে থাকে

ক্ষমা: দুর্বলতা নয়, মর্যাদা অর্জনের অনন্য শক্তি

ক্ষমা: দুর্বলতা নয়, মর্যাদা অর্জনের অনন্য শক্তি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম