সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা কি জায়েজ?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখা এবং সেখান থেকে পাওয়া সুদের অর্থ ব্যবহার করা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সমিতি, সংগঠন কিংবা ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের অর্থ ব্যাংকে রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী, তা জানতে চান অনেকে। এ বিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকের সুদযুক্ত সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা ও তাতে টাকা রাখা নাজায়েজ।
সম্প্রতি ব্যাংকের একটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে সমিতির অর্থ জমা রাখা নিয়ে এমনই একটি প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নকারী জানান, প্রায় ৫০ জন সদস্য মিলে একটি সমিতি গঠন করেছেন। তাদের মধ্যে অনেক আলেম-ওলামাও রয়েছেন। সমিতির পক্ষ থেকে দুজনের নামে ব্যাংকে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৮ লাখ টাকা জমা রয়েছে।
ওই হিসাব থেকে প্রায় ৩৯ হাজার টাকা সুদ এসেছে। ব্যাংক খরচ বাবদ ৮ হাজার টাকা কেটে নেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই দান করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তারা। এভাবে অ্যাকাউন্ট খোলা জায়েজ কি না এবং ভবিষ্যতে কোথায় অর্থ জমা রাখা উচিত, তা জানতে চান প্রশ্নকারী।
জবাবে মুফতি সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকে সুদের শর্তযুক্ত সেভিংস বা ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলা জায়েজ নয়। কারণ, এ ধরনের হিসাবের সঙ্গে সুদের চুক্তি ও লেনদেনের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই সমিতির পক্ষ থেকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। এ জন্য আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করা উচিত।
তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে পাওয়া সুদের অর্থ কোনো অবস্থাতেই নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে না। এ অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে।
ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, ৩৯ হাজার টাকার পুরো অর্থই সুদ হিসেবে গণ্য হবে। ব্যাংক যদি এর মধ্য থেকে ৮ হাজার টাকা সেবামূল্য বা চার্জ হিসেবে কেটে নিয়ে থাকে, তাহলে অবশিষ্ট ৩১ হাজার টাকা দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। তবে সুদের অর্থ দিয়ে নিজেদের কোনো বৈধ ব্যক্তিগত খরচ মেটানো যাবে না।
ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থায় সম্পূর্ণ সুদমুক্ত লেনদেন বজায় রাখা কঠিন। তাই সম্ভব হলে নিজের অর্থ নিজেই নিরাপদে সংরক্ষণ করা উত্তম। ব্যাংকে রাখার প্রয়োজন হলে লকার ভাড়া নিয়ে অর্থ সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একান্ত প্রয়োজনে ব্যাংকে হিসাব খুলতে হলে সুদমুক্ত কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ‘ফাতাওয়া উসমানি’ গ্রন্থেও বলা হয়েছে, অর্থ সংরক্ষণের জন্য প্রথমে নিজস্ব ব্যবস্থা করা উত্তম। তা সম্ভব না হলে ব্যাংকের এমন হিসাব ব্যবহার করতে হবে, যেখানে সুদ যুক্ত হয় না। সুদের অর্থ ভুলবশত পাওয়া গেলে তা গ্রহণ না করে ছেড়ে দিতে হবে। আর গ্রহণ করে ফেললে তা দান করে দিতে হবে।
অন্যদিকে ‘আহসানুল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ও লকার ব্যবহারের বিষয়ে পৃথক আলোচনা রয়েছে। সেখানে সুদযুক্ত হিসাবে অর্থ জমা রাখাকে হারাম বলা হয়েছে। কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও সুদভিত্তিক ব্যাংকের কার্যক্রমে সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে তীব্র প্রয়োজনের ক্ষেত্রে লকার ব্যবহারের সুযোগের কথা বলা হয়েছে।
মুফতি সিরাজুল ইসলামের দেওয়া এ ফতোয়ায় ‘বাজলুল মাজহুদ ফি হাল্লি সুনানি আবি দাউদ’, ‘ফাতাওয়া উসমানি’ ও ‘আহসানুল ফাতাওয়া’ গ্রন্থের উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।

