হারাম টাকায় জমি কিনে পরবর্তীতে সমপরিমাণ অর্থ দান করলে কি হালাল হয়ে যাবে?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অবৈধ উপার্জনের টাকা দিয়ে জমি কেনার পর সমপরিমাণ টাকা দান করলেই কি জমি হালাল হয়ে যায়? এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে অর্থটি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং এর প্রকৃত মালিক কে, তার ওপর। ইসলামী শরিয়তে হারাম সম্পদের বিষয়ে শুধু দান করাকে সমাধান হিসেবে দেখা হয় না; বরং অর্থের উৎস ও মালিকানা বিবেচনায় নিয়ে তা নিষ্পত্তির নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামি ফতোয়াবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কারও কাছ থেকে চুরি, প্রতারণা, আত্মসাৎ বা অন্য কোনো উপায়ে অবৈধভাবে অর্থ নেওয়া হলে প্রথম দায়িত্ব হলো তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া। ওই অর্থ দিয়ে জমি কেনা হয়ে থাকলেও মালিকের পাওনা ফেরত দেওয়ার দায় শেষ হয়ে যায় না।
জামিয়া উলুম ইসলামিয়া, বিন্নুরি টাউনের দারুল ইফতার এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, হারাম অর্থের মালিককে শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাকে অর্থ ফেরত দিতে হবে। তিনি মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীদের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে। মালিক বা তার উত্তরাধিকারীদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব না হলে সমপরিমাণ অর্থ দরিদ্রদের মধ্যে সদকা করে দেওয়া যেতে পারে। তবে এই অর্থ দানের ক্ষেত্রে সাধারণ নফল সদকার মতো সওয়াব অর্জনের নিয়ত নয়, বরং হারাম সম্পদের দায় থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
অন্যদিকে, সুদ, জুয়া কিংবা নিষিদ্ধ কোনো কাজের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের ক্ষেত্রে বিধান কিছুটা ভিন্ন। ইসলামকিউএর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের অর্থ নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার না করে তা থেকে মুক্ত হতে হবে। দরিদ্রদের সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন আলেমরা। তবে অর্থের উৎস ও পরিস্থিতি অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণে আলেমের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
জমি কি হালাল হয়ে যাবে?
হারাম অর্থ দিয়ে জমি কেনার পর সমপরিমাণ টাকা দান করলেই জমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালাল হয়ে যাবে— এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। বিশেষ করে অর্থটি যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে অন্যায়ভাবে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাকে বা তার উত্তরাধিকারীদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়াই মূল দায়িত্ব।
তবে হারাম অর্থের মালিক অজ্ঞাত হলে এবং তাকে খুঁজে পাওয়ার সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে সমপরিমাণ অর্থ সদকা করে দায়মুক্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এভাবে অর্থের দায় নিষ্পত্তির পর জমির মালিকানা ও তা থেকে অর্জিত আয়ের বিধান কী হবে, তা অর্থের উৎস এবং জমি কেনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করতে হবে।
তওবা ও হারাম উপার্জন পরিত্যাগ জরুরি
ইসলামে হালাল উপার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই হারাম অর্থ দিয়ে সম্পদ গড়ে তুললে শুধু অর্থ দান করাই যথেষ্ট নয়; অবৈধ উপার্জনের পথ থেকেও ফিরে আসতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের অন্যায়ের জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে।
