Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

বিশ্বনবীর (সা.) যুগে নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

বিশ্বনবীর (সা.) যুগে নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি

ইসলামে পদের লোভ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন সম্পর্কে নবীজির (সা.) প্রদর্শিত কালজয়ী শিক্ষাসমূহ বিস্তারিত জানুন। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

নেতৃত্ব শুধু ক্ষমতা নয়—এটি মানুষের ওপর মানুষের দায়িত্ব। ইতিহাসের পাতায় বহু শাসক ও শাসনব্যবস্থার কথা উল্লেখ থাকলেও আদর্শ নেতৃত্বের সর্বোৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর যুগে নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি ছিল ন্যায়, নৈতিকতা ও আমানতের ওপর প্রতিষ্ঠিত—যা আজও মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

বর্তমান সময়ে নেতা বা জনপ্রতিনিধি নির্বাচন সাধারণত ভোটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে নবীজি (সা.)-এর যুগে নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি বর্তমান গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার মতো ছিল না। মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর সেখানে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি নিজেই। তার ইন্তেকালের পর পর্যায়ক্রমে সাহাবায়ে কেরাম মদিনা রাষ্ট্রের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নবীজি (সা.)-এর জীবদ্দশায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকেই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। তার ওফাতের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় তার প্রদর্শিত আদর্শ ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা হয়। সে যুগে নেতা নির্বাচন হতো মূলত কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা, নৈতিক যোগ্যতা, জনগণের আস্থা এবং পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবের চেয়ে দায়িত্ববোধ ও আমানতের গুরুত্বকেই তখন বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো।

মদিনায় রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ভিত্তি

হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু ধর্মীয় নেতা হিসেবেই নয়, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্ব গড়ে উঠেছিল তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর—

১. ওহি ও আল্লাহর নির্দেশনা

২. জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আনুগত্য

৩. ন্যায়বিচার ও আমানতদারিতা

মদিনার আনসার ও মুহাজিরদের বাইয়াতের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্ব সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

বাইয়াত: নেতৃত্ব গ্রহণের সামাজিক স্বীকৃতি

নবী যুগে নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ছিল বাইয়াত। আকাবার বাইয়াতের মাধ্যমে মদিনাবাসী রাসুল (সা.)-কে তাদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করেন। এটি কোনো জোরপূর্বক শপথ ছিল না; বরং বিশ্বাস, আস্থা ও দায়িত্ববোধ থেকে মদিনার মানুষ স্বেচ্ছায় রাসুল (সা.)-কে নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

যোগ্যতা ও চরিত্র ছিল মূল মানদণ্ড

নবী যুগে নেতৃত্ব নির্ধারণে বংশ, সম্পদ কিংবা সামাজিক ক্ষমতাকে মুখ্য করা হতো না। বরং তাকওয়া ও আল্লাহভীতি, ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারি এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকেই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

এই নীতির বাস্তব উদাহরণ হলো— এক সময়ের দাস হজরত বিলাল (রা.)-কে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং অল্প বয়সী হজরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-কে সেনাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়।

পরামর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থা

রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরআন ও ওহির আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। তবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে শূরা বা পরামর্শ গ্রহণ করতেন। বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধসহ বিভিন্ন ঘটনায় এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নবী যুগের নেতৃত্ব ছিল অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক।

ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতায় নিরুৎসাহ

নবী যুগে নেতৃত্বের পদ চাওয়া বা ক্ষমতার প্রতি লালায়িত হওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হতো। হাদিসে পাকে এসেছে—

হজরত আবু মুসা (রা.) বর্ণনা করেন—

دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَرَجُلاَنِ مِنْ قَوْمِي فَقَالَ أَحَدُ الرَّجُلَيْنِ أَمِّرْنَا يَا رَسُولَ اللهِ وَقَالَ الْآخَرُ مِثْلَهُ فَقَالَ إِنَّا لاَ نُوَلِّي هَذَا مَنْ سَأَلَهُ وَلاَ مَنْ حَرَصَ عَلَيْهِ

তিনি ও তার গোত্রের দুই ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হন। তাদের একজন বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে কোনো বিষয়ে আমীর নিযুক্ত করুন।’ অপরজনও একই আবেদন করেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন— ‘যারা নেতৃত্ব চায় এবং এর প্রতি লালায়িত হয়, আমরা তাদেরকে এ পদে নিয়োগ করি না।’ (বুখারি ৭১৪৯)

এই হাদিসের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) নেতৃত্বকে ক্ষমতার মোহ ও ব্যক্তিগত লোভ থেকে মুক্ত রাখার শিক্ষা দিয়েছেন।

বিশ্বনবী (সা.)-এর যুগের নেতৃত্বব্যবস্থা আমাদের শেখায়— নেতৃত্ব কোনো ক্ষমতার পদ নয়, বরং এটি একটি মহান আমানত। যোগ্যতা, চরিত্র, দায়িত্ববোধ ও মানুষের কল্যাণই ছিল নেতা নির্বাচনের প্রধান মানদণ্ড। ক্ষমতার লোভ নয়, বরং আল্লাহভীতি ও জনগণের আস্থাই একজন নেতাকে প্রকৃত অর্থে মর্যাদাবান করে তোলে। আজকের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় যদি নবীজি (সা.)-এর প্রদর্শিত এই আদর্শ অনুসরণ করা যায়, তবে নেতৃত্ব ফিরে পেতে পারে তার প্রকৃত মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রূপ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ইলিয়ানা ইয়োতোভা

বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ইলিয়ানা ইয়োতোভা

নির্বাচনের ফল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল ইসরাইল

নির্বাচনের ফল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল ইসরাইল

নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিয়ে ইতিহাস গড়লেন পোপ লিও

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিয়ে ইতিহাস গড়লেন পোপ লিও

ইসরাইলে নির্বাচন শেষে অচলাবস্থা, সরকার গঠনে সামনে ৪ পথ

সিএনএনের প্রতিবেদন ইসরাইলে নির্বাচন শেষে অচলাবস্থা, সরকার গঠনে সামনে ৪ পথ

‘আরবদের কথার কোনো মূল্য নেই’

‘আরবদের কথার কোনো মূল্য নেই’

আরও পড়ুন

ইমামের আগে দাঁড়ালে কি মুক্তাদির নামাজ হবে?

ইমামের আগে দাঁড়ালে কি মুক্তাদির নামাজ হবে?

দাওয়াত খেয়ে টাকা দেওয়া কি জায়েজ? ইসলামের বিধান কী?

দাওয়াত খেয়ে টাকা দেওয়া কি জায়েজ? ইসলামের বিধান কী?

শেষ রাতের যে ৫ আমল বদলে দিতে পারে জীবন

শেষ রাতের যে ৫ আমল বদলে দিতে পারে জীবন

ধূমপানের কারণে কি অজু ভেঙে যায়?

ধূমপানের কারণে কি অজু ভেঙে যায়?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম